রৌমারীতে আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

Exif_JPEG_420

রৌমারী সংবাদদাতা : বহুল আলোচিত, বিতর্কিত, জালিয়াতির কারিগড় উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা শহিদুল্লাহের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত, পচাঁ ও লাল চাল আটক, উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও দুদকের তদন্তের পর মামলা ঠেকাতে ও নিজেকে রক্ষা করতে জেলা ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডি: ম্যাজি: ২ নং আমলী আদালত মো: নং ৯৯১/২০২৫ এ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলেছে মামলায় জড়িত ভুক্তভোগীগন।
মামলার অভিযোগে আসামী চালকল মালিক নাসির উদ্দিন লাল মিয়া, নাহিদ হোসেন, আবুল হোসেন, হাফিজুর রহমান ও রোকনুজ্জামান রিপনসহ ৫ জনকে আসামী দিয়ে লিখেছেন, আসামীগন একদলভুক্ত গুন্ডা, সন্ডা, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী, চোর ও ডাকাত প্রকৃতির।
মামলার এজাহারে বলেন, সোনালী ব্যাংক শাখার সঞ্চয়ী হিসাব ব্যাংকের অসাধু কর্মচারীদের সহযোগীতায় ব্যাংক লেনদেন লক্ষ রাখে। অপরদিকে আওলাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তির ১০ টি গরু, যাহার মূল্য ১০ লাখ ৮২ হাজার টাকা। ময়মনসিংহ নেয়ার সময় মুক্তাগাছা চরাঘাটি ব্রীজের উপর তাদের মারপিট গরুসহ গাড়ি নিয়ে যায় এবং বাদির জমি ক্রয়ের জমাকৃত বেতনের ৫ লাখ টাকা জোড় পুর্বক ছিনিয়ে নেয়। সত্যকে চাপা দিতে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মামলা দায়ের করে হয়রানি করছে শহিদুল্লাহ।
উল্লেখ্য যে, খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ ২০২২ সালের ডিসেম্বরে রৌমারীতে যোগদান করেন। এরপর থেকে অনিয়ম দুর্নীতি করে চলছে। দীর্ঘদিনের অনিয়ম দুর্নীতির তদন্ত করে রহস্যজনক কারনে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় নি। তার অনিয়মের বিষয় নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও বহাল তবিয়তে ছিলেন তিনি। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মিলার নাসির উদ্দিন লালমিয়ার চালকলের বরাদ্দকৃত ৫২ মে: টন চাল গুদামে জমা দেন। এর থেকে ১০.০২০ মে: টনসহ আরোও ২ মে;টন ৭ শত কেজি চাল, ৩ হাজার নতুন খালি বস্তাসহ মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার ৯৮০ টাকা নাসির উদ্দিন লালমিয়ার একাউন্টে না দিয়ে বিলটি প্রতারনা করে শামিম এন্টার প্রাইজ নামের ব্যাংক একাউন্টে জমা দিয়ে চেকের মাধ্যমে উত্তোলন পুর্বক আত্মসাত করে। অন্যদিকে আরোও ২ মে:টন ৭ শত কেজি চাল ৩ হাজার নতুন খালিবস্তাসহ প্রায় ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা আত্মসাত করায় খাদ্য কর্মকর্তা শহিদুল্লাহর দুর্নীতি ও তার অর্থ উত্তোলনে ব্যর্থ হলে কুড়িগ্রাম জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের করেন।
আরোও উল্লেখ্য যে, চট্রগ্রাম হতে রৌমারী খাদ্যগুদামে চাল বরাদ্দের প্রগ্রাম হয়। সেই চাল গুদামে না এনে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ও পরিবহন ঠিকাদারের যোগসাজসে চাল বিক্রি করে ৮২ লাখ টাকা রৌমারী সোনালী ব্যাংকে তার নিজ একাউন্টে জমা করেন। অপরদিকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের আনন্দ বাজার কেন্দ্রের ডিলার মনির হোসেন রৌমারী খাদ্য গুদাম থেকে খাদ্য বান্ধব ৫৩৩ কার্ডধারী ব্যক্তির বিপরিতে প্রায় ১৬ মে: টন চাল উত্তোলন করেন। ২ ট্রাক্টর (কাকড়া) গাড়ি গুদামের বাহিরে আসার সাথে সাথে পঁচা চাউলের গাড়ি ২টি জনতার হাতে আটক হয়। এছাড়াও তার সেচ্ছাচারিতা ও অসৌজন্যমুলক আচরণসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অপকর্মের চিত্র তুলে ধরে ৩৪ জন চালকল মিলার, ১৯ জন ঠিকাদার, কয়েকজন কৃষক ও ২ জন ব্যবসায়ী পৃথক পৃথক ভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন, মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে অভিযোগ করে।
নানা বিষয় নিয়ে গত ২১ ও ২৩ সেপ্টেম্বর উর্দ্বোতন কর্মকর্তা ও দুদকের তদন্ত সম্পন্ন করেন। এমন সকল অনিয়ম দুর্নীতি ঠেকাতে তার এ মিথ্যা মামলায় আমরা মিলার মালিকগনসহ এলাকার সবাই এ মিথ্যা মামলার নিন্দা জ্ঞাপন করছি।