রৌমারীতে রাস্তা নির্মান কাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে

রৌমারী সংবাদদাতা : বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের জেলা সমুহের পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ফিডার শালুর মোড়, কাজাইকাটা হাট চেইনেজ ১ হাজার থেকে ৪ হাজার ৩৫০ মিটার পর্যন্ত পাকা রাস্তা নির্মান কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইউনুছ এন্ড ব্রাদার্স নাসিরাবাদ, পানচালসি চট্রগ্রামের অনুকুলে কাজ পায়। পরে সাব ঠিকাদার হিসাবে কাজটি করছেন সাইফুল, ফারুক নামের দুই ব্যক্তি। চলমান কাজটি ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির চিত্র দেখলে এলাকার লোকজন কাজ বন্ধ করে দেয় এবং উপজেলা প্রকৌশলী ও সাব ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কাজে অভিযোগ তুলেছেন। সরকারি বরাদ্দে বিপুল পরিমান অর্থ লুটপাট করে নির্মান কাজের অনিয়মের কথা বললে, তাদেরকে বিভিন্ন অজুহাতে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এলাকাবাসীর।
এলজিইডির বাস্তবায়নে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল প্রকল্পের রাস্তার নির্মান কাজের অনুকুলে যাহার চুক্তি মূল্য ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দাঁতভাঙ্গা ফিডার শালুর মোড়, কাজাইকাটা হাট চেইনেজ ১ হাজার থেকে ৪ হাজার ৩৫০ মিটার পর্যন্ত পাকা রাস্তা নির্মান কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইউনুছ এন্ড ব্রাদার্স নাসিরাবাদ, পানচালসি চট্রগ্রামের অনুকুলে কাজ নেয়া অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ সাব ঠিকাদার সাইফুল, ফারুক ও উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।
অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩ জানুয়ারী শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নতুন পাকা রাস্তা নির্মানের লক্ষে সাববেছ করা হয়েছে ৩ নম্বর ইট ফাঁক ফাঁক করে বসিয়ে বালু দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এমন চিত্র স্থানীয় লোকজনের চোখে পড়লে অনিয়ম দুর্নীতির কাজ বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয় আব্দুর রাজ্জাকসহ অনেকেই সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, রাস্তা নির্মান কাজে ঠিকাদাররা ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে দায়সারা কাজ করে যাচ্ছে। আমরা গ্রামবাসী নি¤œমানের কাজ করায় বাধা দিলে বিভিন্ন অজুহাতের কথা বলেন। যে রাস্তার কাজ করা হচ্ছে তা বেশিদিন টিকবে না। আমাদের দাবী, রাস্তার কাজটি যেন ভালো করা হয়।
গ্রামবাসীর অভিযোগকারীগণ বলেন, সরকার গ্রামের কাচাঁ রাস্তা পাকা করনের মাধ্যমে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়ন কাজে কিছু কিছু এলাকায় দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কারনে সরকারের বরাদ্ধের অধিকাংশ অর্থ লুটপাট করে খাচ্ছে। ওই সমস্ত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের কারনে সরকারের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।
এবিষয়ে জানতে সাব ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম, ফারুক হোসেন বলেন,আমরা কখনো চেষ্টাও করি না রাস্তার কাজ খারাপ হউক। আমরা ভালো ইট দিয়ে কাজ করছি। তবে কিছু ইটের গুড়া দেখছেন তা ইটের নিচের অংশটুকু।
এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মঞ্ছুরুল হকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি দেখেছি কাজ ভালো ইপ দিয়ে করা হচ্ছে। তবে সেখানে দায়িত্বে সহকারি ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে তিনিই ভালো জানেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, কাজের বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ পেলে আমি, উপজেলা প্রকৌশলীসহ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সেখানে দেখা গিয়েছি। তবে কাজের গুনগত মান দেখে তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দ্রুত খারাপ ইট তুলে ভালো ইট দিয়ে যথা সময়ে কাজ শেষ করার কথা বলা হয়েছে।
এবিষয়ে জেলা প্রকৌশলী ইউনুছ আলী সরকারের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আমি অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছিলাম। পরে খারাপ ইট গুলি তুলে ভালো ইট দিয়ে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।