ঝিনাইগাতী সংবাদদাতা : শেরপুরের গারো পাহাড় জুড়ে এখন মৌচাষের বাণিজ্যিক মৌসুমে মধু আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন দেশের বিভিন্ন জেলার মৌ চাষিরা। সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, বগুড়া, চাঁদপুর, নরসিংদীসহ কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫টি জেলা থেকে চাষিরা এসে প্রায় চার শতাধিক মৌচাষি তাঁদের শত শত মৌবক্স নিয়ে জমজমাট ভাবে মধু আহরণ করছেন। শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীর সীমান্ত এলাকা পাহাড়ি অব্জল গুলোতে।সবুজ পাহাড়ের বুক জুড়ে এখন দেখা মিলছে মৌ চাষিদের উপচে পড়া মিলন মেলা। প্রতি মৌ চাষির রয়েছে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০টি মৌবক্স। পাহাড়ি ফুলের রনের মধু সংগ্রহে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এসব চাষিরা।চাষিরা জানান, পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এবারের মৌসুমে মধুর উৎপাদন বেড়েছে। তারা বলেন, “প্রতি ৮ থেকে ১০ দিন পরপর প্রতিটি বাক্স থেকেই ৪ থেকে ৫ কেজি করে মধু পাওয়া যাচ্ছে।”উৎপাদিত এই মধু স্থানীয়ভাবে খুচরা ও পাইকারি উভয় বাজারেই বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে পাহাড়ি ফুলের মধু মণ প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকা। বিভিন্ন কোম্পানিও চাষিদের কাছ থেকে মধু সংগ্রহ করছে, ফলে তারা লাভবান হচ্ছেন। চাষিদের দাবি, কখনো কখনো ফুলের স্বল্পতা দেখা দিলে মৌ মাছিগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে বাড়তি খাদ্য হিসেবে চিনি খাওয়াতে হয়। তবে শরিষা ফুল ফুটতে শুরু করলেই তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ছুটে যাবেন নতুন মৌসুমের সন্ধানে। রাাংটিয়া বিটের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, মৌমাছি উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি ও পরাগায়নে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্যও বজায় থাকে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান,“ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে মৌমাছির ভূমিকা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরাগায়নের মাধ্যমে ফসলের ফলন বাড়ে। আর মধু তো যুগ যুগ ধরে বহু রোগের মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয়রা মনে করেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে এবং মৌচাষিদের আরও সহায়তা দেওয়া গেলে গারো পাহাড়ের এই মৌচাষ শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে। এতে চাষিদের আয়ের পথ যেমন বাড়বে, তেমনি পাহাড়ি পরিবেশও আরও টেকসই হয়ে উঠবে।
শেরপুরের গারো পাহাড়ে মধু আহরণে কর্মব্যস্ত মৌচাষিরা
