নিজস্ব প্রতিনিধি: জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতে না হতেই স্থানীয় সরকারের উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কথা শোনা যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে জামালপুর জেলা জুড়েই। জেলাতে সম্ভাব্য প্রার্থীরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁদের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন। এমনই একজন হলেন জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সফিউর রহমান শফি (মাস্টার)। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিবেন বলে শোনা যাচ্ছে।
জানা গেছে, বিএনপি নেতা সফিউর রহমান শফি মাস্টার ১৯৬৯ সালে জামালপুর সদর উপজেলার বাঁশচড়া ইউনিয়নের বটতলা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মজিবর রহমান মাস্টার বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। শফি মাস্টার ছাত্রজীবন থেকেই পিতার হাত ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শে নিজেকে রাজনীতিতে জড়ান। শফিউর রহমান শফি পেশায় একজন শিক্ষক, বর্তমানে তিনি জামালপুর পৌরশহরের ঐতিহ্যবাহী সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
রাজনৈতিক জীবনে মো. সফিউর রহমান শফি ১৯৮৭-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত জামালপুর পৌর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ১৯৮৮-১৯৯১ সাল পর্যন্ত জামালপুর শহর ছাত্রদলের প্রথমে আহ্বায়ক এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। ১৯৯১-১৯৯৪ সাল পর্যন্ত জামালপুর সদর উপজেলা ছাত্রদলের প্রথমে আহ্বায়ক এবং পরবর্তীতে সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন এবং তিনিই প্রথম সদর উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করেছিলেন। ১৯৯৪ সালে বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার সাহেবের উপস্থিতিতে জামালপুর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে নাম ঘোষণা হলেও গ্রুপিংয়ের কারণে কমিটির অনুমোদন হয়নি। ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত জামালপুর সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ছিলেন। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মরহুম আনোয়ারুল হকের আভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে হত্যা হওয়ায় সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্বে আসতে পারেননি। কিন্তু তিনি ২০০১ সালে জামালপুর সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃবৃন্দের হাতে সফলভাবে নেতৃত্ব তুলে দিয়েছিলেন।
১৯৯৮ সালে সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক থাকাকালীনই যোগ্যতার মানদণ্ডে দায়িত্ব পান জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে। পরবর্তীতে ২০০১ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। এ দায়িত্বটা সততা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে একাধারে তিনবার (২০২০ সাল পর্যন্ত) পালন করেন। ২০২০ সালে তাঁকে জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়। সে সময় তিনি সদর উপজেলার অধীনস্থ ১৩৫টি ওয়ার্ড ও ১৫টি ইউনিয়নে সম্মেলন করে যোগ্য নেতৃত্ব তুলে আনেন জিয়া পরিবারে। ২০২২ সালে জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক থাকাকালীন তাঁকে ২০০৩ সালে জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় এবং ২০১৬ সালে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি করা হয়, যে দায়িত্ব অদ্যাবধি পর্যন্ত পালন করছেন তিনি।
শিক্ষক-সংগঠক-রাজনীতিবিদ মো. সফিউর রহমান শফি মাস্টার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথেও সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি জেলা স্কাউটস, জামালপুরের সম্পাদক, জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সহ-সভাপতি, সহ-সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, রেড ক্রিসেন্ট, জামালপুর ইউনিটের আজীবন সদস্য, এফপিএবি, জামালপুরের আজীবন সদস্য, বাঁশচড়া ভূমিহীন সমবায় সমিতি, বাঁশচড়া, জামালপুর সদর, জামালপুরের সভাপতি, জামালপুর শহরের কাচারীপাড়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার সাবেক সভাপতি, কাচারীপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সদস্য সহ নানা সামাজিক সংগঠনের সাথে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার সুবাদে মো. সফিউর রহমান শফি মাস্টার তাঁর নিজ এলাকা বাঁশচড়া ইউনিয়নসহ জামালপুর সদর উপজেলার জামালপুর পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নেই বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটার ও জনতার কাছে একজন পরিচিত মুখ। জামালপুর সদর উপজেলার তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ মনে করেন শফি মাস্টার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য একজন যোগ্য প্রার্থী। তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে জামালপুর সদর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাবেন বলে ধারণা করছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী-জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সফিউর রহমান শফি এ প্রতিবেদককে বলেন, “দীর্ঘদিন রাজনীতি করার সুবাদে দলীয় নেতা-কর্মীসহ আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমাকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়। যদি দল আমাকে যোগ্য মনে করেন এবং জামালপুর সদর আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন ভাই যদি আমাকে সমর্থন দেন তাহলে আমি নির্বাচনে অংশ নিবো। আমি মনে করি দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে তবে আল্লাহর রহমতে জামালপুর সদর উপজেলাবাসী আমাকে নিরাশ করবেন না।”
