আসন্ন বাংলাদেশ সফরে সীমিত ওভারের সিরিজে স্বাগতিক স্পিনারদের সামলানো চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন নিউজিল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথাম। বাংলাদেশের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অধিনায়ক ল্যাথাম জানান, বাংলাদেশ দলে অনেক অভিজ্ঞ ও মানসম্পন্ন স্পিনার আছে। এই সফরে আমাদের জন্য বড় হুমকি হবে প্রতিপক্ষের স্পিন। স্বাগতিক স্পিনারদের সামলানো চ্যালেঞ্জিং হবে। অতীতে স্পিন নির্ভর উইকেট বানিয়ে সফরকারীদের ফাঁদে ফেলার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। তবে গেল মাসে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্পিন সহায়ক উইকেটের বদলে স্পোর্টিং উইকেটে বানিয়েছিল টাইগাররা। কিন্তু বাংলাদেশের মাটিতে অতীত অভিজ্ঞতার কথা ভুলেননি ল্যাথাম। সে কারণে বাংলাদেশের স্পিনারদের নিয়ে সর্তক নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটিতে যেকোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে স্পিন বড় ভূমিকা রাখে। অতীত রেকর্ড তেমনই বলছে। এবারও বাংলাদেশের স্পিনাররা আমাদের বড় হুমকি হবে। আমরা যেকোনো পরিস্থিতি সামলা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। খেলার পরিস্থিতি ও উইকেটে সম্ভাব্য ধরন অনুসারে যেকোন অবস্থার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য আমাদের দলের আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বা অন্য কোন জায়গায় খেলার জন্য প্রস্তুতি থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খেলার পরিস্থিতির সাথে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারলে খুব বেশি সমস্যা হয় না। আশা করি এবার বাংলাদেশ সফরে আমরা সবকিছু ভালোভাবে করতে পারব।’ চলমান ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল), পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলোয়াড় জড়িত থাকার পাশাপাশি ইঞ্জুরি ও বিশ্রাম থাকায় দ্বিতীয় সারির দল নিয়েই বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে নামবে নিউজিল্যান্ড। উপরের সারির খেলোয়াড়রা দলে না থাকলেও এমন দলকে ভারসাম্যপূর্ণ বলছেন ল্যাথাম। কারণ হিসেবে তিনি জানান, জাতীয় দলের হয়ে কম ম্যাচ খেললেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা আছে অনেকেরই। তিনি বলেন, ‘আগের দলগুলোর চেয়ে এবারের দল আলাদা। তবে এমন নয় যে, তাদের অভিজ্ঞতা নেই। বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কম-বেশি ম্যাচ খেলেছে। বিশেষভাবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে তাদের খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আশা করি, সেই অভিজ্ঞতা এই সিরিজে ভাল কাজে দেবে।’ নিউজিল্যান্ডের বর্তমান দলে থাকা ছয় ক্রিকেটার গত বছর ‘এ’ দলের হয়ে বাংলাদেশ সফর করেছেন। তাই বাংলাদেশের কন্ডিশন নিয়ে ধারনা আছে ক্রিকেটারদের। এজন্য বাংলাদেশের কন্ডিশন ক্রিকেটারদের উপকৃত করবে বলে মনে করেন ল্যাথাম। তিনি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে কন্ডিশন বড় ছাপ ফেলে। এই কন্ডিশনের কারনে খেলার ধরণ পাল্টে যায়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে নিজের অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করতে হয়। আশা করি এর আগে যারা এই কন্ডিশনে খেলেছে তারা কন্ডিশন নিয়ে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করবে, বাংলাদেশের উইকেট এবং বোলারদের নিয়ে ধারনা দিবে।’ ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে বাংলাদেশ সফর শুরু করবে নিউজিল্যান্ড দল। ১৭ ও ২০ এপ্রিল সফরের প্রথম দুই ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। চট্টগ্রামের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ২৩ এপ্রিল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে খেলবে দু’দল। চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ যথাক্রমে ২৭ ও ২৯ এপ্রিল এবং ২ মে মিরপুরে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলবে দু’দল।
নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে দল
টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), মুহাম্মদ আব্বাস, আদিত্য অশোক, জশ ক্লার্কসন, ডেন ক্লিভার, ডিন ফক্সক্রফট, নিক কেলি, জেইডেন লেনক্স, হেনরি নিকোলস, উইল ও’রুর্ক, ন্যাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার, বেন লিস্টার ও উইল ইয়ং।
নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি দল
টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), কাটেনে ক্লার্ক, জশ ক্লার্কসন, ডেন ক্লিভার, ম্যাট ফিশার, ডিন ফক্সক্রফট, বেভন জ্যাকবস, নিক কেলি, জেইডেন লেনক্স, টিম রবিনসন, বেন সিয়ার্স, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি, বেন লিস্টার ও ব্লেয়ার টিকনার।
