হস্তশিল্প ও এমব্রয়ডারি জনগোষ্ঠীর সমস্যা ও সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে জাতি ও দেশকে উন্নত করার বিভিন্ন পরিকল্পনা 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) পল্লবীস্থ লালমাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে হস্তশিল্পী, কারচুপি ও হ্যান্ড এমব্রয়ডারি ফেডারেশন আয়োজন করেছে দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী আমিনুল হক।

বক্তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশ ও জনগণের জন্য অবদান স্মরণ করেন এবং তাঁর রুহের শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করেন।

ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী  আমিনুল হক তার বক্তব্যে বলেন, “জাতীয় জীবনের নানা সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরণীয়। তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করি এবং জনগণকে শান্তি ও কল্যাণমূলক উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”

তিনি আরও বলেন, ফেডারেশনের এই ধরনের উদ্যোগ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐক্য জোরদার করতে সহায়ক এবং জনগণকে দেশনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সুযোগ করে দেয়। হস্তশিল্পী, কারচুপি ও হ্যান্ড এমব্রয়ডারি সাথে সংযুক্ত জনগোষ্ঠীর সমস্যার সমাধান এবং তাদের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে জাতি ও দেশকে উন্নত করার বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।

সংগঠনের সভাপতি ইব্রাহিম  হাসান মিঠু বলেন- দেশের হস্তশিল্প ও এমব্রয়ডারি খাতকে ঘিরে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা, যা সঠিক পরিকল্পনা ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হতে পারে।এই খাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করা গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী ক্ষমতায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা হস্তশিল্প ও এমব্রয়ডারি জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য মজুরি, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও বাজার সুবিধার অভাবে পিছিয়ে রয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, স্বল্প পুঁজি, উন্নত ডিজাইন ও আন্তর্জাতিক মান সম্পর্কে অজ্ঞতা এই খাতের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কুরবান কোরায়শী বলেন- এই খাতের সম্ভাবনাও সীমাহীন। নকশিকাঁথা, জামদানি, সূচিশিল্প ও এমব্রয়ডারি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গ্রামীণ নারী ও বেকার যুবকদের জন্য ঘরে বসে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় দারিদ্র্য হ্রাসেও এই শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হস্তশিল্প ও এমব্রয়ডারি শিল্পকে কুটির শিল্প হিসেবে বিশেষ মর্যাদা প্রদান, প্রতিটি জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা চালু এবং ডিজিটাল মার্কেটিং ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা, সামাজিক সুরক্ষা ও শক্তিশালী শ্রমিক সংগঠন গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হউক।
দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী (সুমন) বলেন , পরিকল্পিতভাবে এই খাতকে এগিয়ে নেওয়া গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, নারীর আর্থিক স্বাবলম্বিতা বাড়বে এবং দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পরিচিতি লাভ করবে।
সব মিলিয়ে, হস্তশিল্প ও এমব্রয়ডারি জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধান করে তাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে এটি কেবল একটি শিল্প নয়, বরং জাতি ও দেশ উন্নয়নের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।তাই বিদেশি পোশাক আমদানি নিষিদ্ধ করা দরকার। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন-সুশীল সমাজের প্রতিনিধি লালমাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ মিয়া মাষ্টার,ব্যবসায়ী ইমাম হাসান ও মির্জা আসলাম আলী, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন আলী, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, সদস্য  মোহাম্মদ আরমানসহ অনেকেই।