হামের প্রাদুর্ভাব ছিল বজ্রপাতের মতো, প্রস্তুতি ছিল না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবকে ‘বজ্রপাতের মতো আকস্মিক’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি ছিল না বলেও জানান তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামজনিত নিউমোনিয়ায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। হামে অনেক শিশুর অকালমৃত্যুর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের ঘাটতিকে দায়ী করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হামের প্রকোপে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীতে ভেন্টিলেটরের অভাবে ৩৩টি শিশু মারা গেছে। তিনি বলেন, ভাইরাসের বিষয়টি জানার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমরা ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করেছি। শুরুতে ২৪টি ভেন্টিলেটর দেওয়া হয়, এখন এই সংখ্যা আরও বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ও স্বাস্থ্যসচিব নিজে রাজশাহীতে গিয়ে ভেন্টিলেটর হস্তান্তর করে এসেছেন। মন্ত্রী জানান, এসব ভেন্টিলেটর বেসরকারি খাত থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং এখনও প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সেখানে একজন রোগীর মৃত্যুর খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে তিনি ও স্বাস্থ্যসচিব হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে দেখি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সহায়তায় তৈরি একটি আইসিইউ বন্ধ পড়ে আছে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে, মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসক ও নার্স পদায়নের মাধ্যমে সেটি পুনরায় চালু করা হয়। এর ফলে সেখানে আর কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব ও নৈতিকতার প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা পেশায় অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। চিকিৎসায় অবহেলা মেডিকেল এথিকসের পরিপন্থী। তিনি বলেন, আপনাদের পেশায় কোনো অবহেলা থাকলে তা সরাসরি মেডিকেল এথিকসের পরিপন্থী। সৃষ্টিকর্তার পর রোগীরা চিকিৎসকের কাছেই নিজেদের পুরোপুরি সমর্পণ করেন। চিকিৎসক যা বলেন, রোগী তা-ই শোনেন। মানুষকে সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। করোনা মহামারির সময় দেশের চিকিৎসকদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসকদের নিরলস সহযোগিতায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল। নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে চিকিৎসকেরা যে সেবা দিয়েছেন, তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চিকিৎসকদের জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল সরকারি উদ্যোগ দিয়ে এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। বর্তমানে হাম যেভাবে ছড়াচ্ছে, তা মোকাবিলায় আমাদের চিকিৎসকেরা সামনে থেকে কাজ করবেন। মন্ত্রী আরও বলেন, যদি লাখ কোটি টাকাও খরচ করি, আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। তাই চিকিৎসকদের নৈতিকতার শতভাগ বজায় রেখে এগিয়ে আসতে হবে।