কালশী ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনায় নিহত দুই যুবকের পরিচয় মিলেছে

রাজধানীর পল্লবী এলাকার কালশী ফ্লাইওভারে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় নিহত হওয়া মোটরসাইকেলের দুই আরোহীর পরিচয় মিলেছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক মো. তোফাজ্জল (২০) মানিকদি এলাকার ইএলএফ চাইল্ড স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপর আরোহী রিয়াদ গাজী (১৮) চাঁদপুরের স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।

শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে এসে নিহত তোফাজ্জলের বড় ভাই মো. নাঈম এবং নিহত রিয়াদের মামা আবুল খায়ের মরদেহ শনাক্ত করেন।

নাঈম জানান, কিশোরগঞ্জের ইটনা থানার মাওড়া গ্রামে আমাদের বাড়ি। বর্তমানে মানিকদি বাজারে এলাকায় ভাড়া থাকি। গতকাল রাতে তোফাজ্জল তার এক বন্ধুকে নিয়ে নিজেই মোটরসাইকেল চালিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিল। পরে আমরা জানতে পারি, কালশী ফ্লাইওভারে সড়ক দুর্ঘটনায় আমার ভাই মারা গেছে। এ ঘটনায় আমার ছোট ভাইয়ের মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা তার বন্ধু রিয়াদ ফ্লাইওভার থেকে ছিটকে প্রায় ২৫ ফুট নিচে পড়ে সেও মারা যায় বলে আমরা জানতে পেরেছি।

অপরদিকে নিহত রিয়াদের মামা আবুল খায়ের জানান, আমার ভাগনে গতকাল চাঁদপুর থেকে ঢাকায় বন্ধু তোফাজ্জলের বাসায় বেড়াতে এসেছিল। পরে আজ সকালে আমরা জানতে পারি, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধুই মারা গেছে। দুপুরের দিকে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে এসে আমার ভাগনের মরদেহ শনাক্ত করি।

তিনি আরও জানান, আমার ভাগনে চাঁদপুর সদরের দক্ষিণ হামান গদ্দি গ্রামের বিল্লাল গাজীর ছেলে ছিল। সে চাঁদপুর সদরের একটি মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আতিকুর রহমান জানান, গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই তরুণ মোটরসাইকেলে করে মিরপুর ডিওএইচএস থেকে ফ্লাইওভারে উঠেছিল। এ সময় একটি টয়োটা সিএইচ-আর মডেলের প্রাইভেট কারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলের চালক তোফাজ্জল ফ্লাইওভারের ওপরে এবং পেছনে থাকা আরোহী রিয়াদ ফ্লাইওভার থেকে প্রায় ২৫ ফুট নিচে রাস্তায় ছিটকে পড়ে।

তিনি আরও জানান, পথচারীরা প্রথমে তাদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে যায়। পরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় প্রাইভেটকারসহ চালক থানা হেফাজতে রয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।