মোহাম্মদ আলী : তুমি আমার সাধনার ধন। আরোধ্য নারী। তোমার ডাগর নয়ন, দিগল কালো কেশ, নিষ্পাপ অবয়ব আমাকে মুগ্ধ করেছে। ইউ আর এ মেরিট অরিয়াস স্টুডেন্ট। তুমি বিসিএস দিবে। তুমি একদিন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবে। তোমার মতো নারীকে পেলে আমার জীবন ধন্য হবে। আমি তোমাকে শহুরে পরিবেশে রাখব। কখনো কষ্ট দিব না, কোনোদিনও ছেড়ে যাব না। তুমি আমাকে বিয়ে কর, প্লিজ!
প্রথম দেখায় এমন মিষ্টি মিষ্টি কথায় মন ভুলিয়ে নিজের চেয়ে ১০ বছরের ছোট, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্রী, ঢাকা মিরপুর পল্লবী থানার ব্যবসায়ী আবুল হোসেন ও ফেরদৌসী হোসেন দম্পতির আদরের ছোট মেয়ে, সামিহা তাহসিন (২৫) কে বিয়ে করে, ৪০তম বিসিএস নন-ক্যাডার, কাকিলাকুড়া ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জ উপজেলার সারমারা গ্রামের পান বিক্রেতা, মরহুম আব্দুল আলীর বড় ছেলে, নূর আলী (৩৫)।
গত ১০ জুন ২০২৫ ইং তারিখে সিভি আদান প্রদানের মাধ্যমে, শরীয়তসম্মত পারিবারিক রীতি রেওয়াজের মধ্যে দিয়ে তাদের বিয়ে হয়।
কিন্তু, বিয়ের ১ মাসের মধ্যেই, মেহেদির দাগ শুকাতে না শুকাতেই, একটু একটু করে দূরে সরতে থাকে নুর আলী। যৌতুকের দাবিতে নানা টালবাহানায় নববধূর সাথে দূরত্ব বাড়ায়। এক পর্যায়ে ফ্ল্যাট নিবে বলে স্ত্রীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। তা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় স্ত্রী ও তার পরিবারের সাথে একেবারে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় নূর। এদিকে কয়েকমাস স্বামীকে কাছে না পেয়ে অনেকটা ভেঙ্গে পড়ে নববধূ সামিহা। আহার নিদ্রা ছেড়ে দেয় সে। মেয়ের এমন কষ্ট দেখে সহ্য করতে না পেরে জামাইয়ের খোঁজ নিতে ঢাকা থেকে বকশিগঞ্জে আসেন সামিহার বাবা আবুল হোসেন। শ্বশুরকে বাড়িতে দেখে ক্ষ্যাপে যায় নূর আলী। তাকে অপমান, অসম্মান করে। অগত্যা মেয়ের জীবন ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে জামাইকে নিয়ে যেতে আকুতি মিনতি করেন শ্বশুর। অবশেষে নূর আলী স্ত্রীকে আনতে যাবেন বলে কথা দিয়ে শ্বশুরকে বিদায় করে দেয়। কিন্তু, যেই লাউ সেই কদু।
এভাবে বাবা খালুর সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রাণের স্বামী ফিরে পেতে শেষ চেষ্টা করতে গত শুক্রবার ২৮ নভেম্বর সামিহা স্বপরিবারে ঢাকা থেকে স্বামীর বাড়ি আসে। শ্বশুর বাড়ির লোকজনরা এসেছে শুনে, নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে অন্যঘরে চলে যায় নূর আলী। টের পেয়ে স্ত্রী সামিহাও যায় সেঘরে। সামিহাকে দেখেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে নূর। বলে তোকে আর আমার দেখতে ইচ্ছে করে না। তুই আমার বাড়িতে এসেছিস কেন? তোকে আমি রাখব না। তালাক দিব। তোর সাথে আমার কোর্টে দেখা হবে। তুই বেরিয়ে যা আমার বাড়ি থেকে।
স্বামী পরম ধন। মেয়েদের জীবনে বিয়ে একটাই। এই বিশ্বাসে সামিহা স্বামীর কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চায়। বলে, আপনি যা চান তা-ই হবে। আপনি যা বলবেন আমি তা-ই করব। যেখানে রাখবেন সেখানেই থাকব। তারপরও আপনি আমাকে ছেড়ে যাবেন না, প্লিজ! আমি আপনাকে ছাড়া বাঁচব না! তাতেও নিষ্ঠুর, পাষাণ, নূর আলীর মন না গললেও তার পায়ে ধরে মাফ চায় সামিহা। এদসত্বেও ভণ্ড, প্রতারক, নূর আলী তাকে লাত্থি মেরে বিছানা থেকে ফেলে দিয়ে মারপিট করতে থাকে। এমন সময় সামিহার খালা ফিরাইতে গেল সে ও তার ভাই বোনরা তাকেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং গায়ে হাত তোলে।
এমতাবস্থায়, সুদূর ঢাকা থেকে আসা নতুন নাইওরি অপমান ও লজ্জায় স্থানীয় চেয়ারম্যান এর কাছে নালিশ করেন। অতঃপর সেখানে সুবিচার না পেয়ে তারা বকশিগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।
এব্যাপারে বগারচর ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ সুহেল রানা পলাশ জানান, নূর আলী ও তার পরিবার তার স্ত্রী এবং শ্বশুর বাড়ির আত্মীয় স্বজনদের সাথে খুব খারাপ ব্যাবহার করেছে। যা অত্যান্ত দুঃখজনক!
সামিহার বাবা আবুল হোসেন বলেন, আমাদের অপছন্দ সত্বেও মেয়ের পছন্দ ও ছেলের শিক্ষা এবং সরকারির বিবেচনায় নিয়ে অজোপাড়াগাঁয়ের গরীব ঘরে বিয়ে দিতে রাজি হয়ে ছিলাম। কিন্তু, তার শিক্ষা যে এমন কুশিক্ষায় পরিণত হবে তা বুঝতে পারিনি। সে মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে আমার কোমলমতি মেয়েটার জীবনটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে! আমরা তার বিচার চাই।
এব্যাপারে শনিবার কাকিলাকুড়া ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, নূর আলীর মতামত জানতে তার বাড়িতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়েছে।
কাকিলাকুড়া ইউনিয়ন উপ-সহাকরী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ
