রৌমারী সংবাদদাতা : কোর্ট থেকে সুস্পষ্ট নিশেধাজ্ঞা দেয়া থাকলেও থেমে নেই বালু উত্তোলন। প্রশাসন নিরব ভুমিকায়। রৌমারী উপজেলার সাহেবের আলগা থেকে রাজিবপুর উপজেলার মহনগঞ্জ পর্যন্ত এলাকায় প্রভাবশালীরা কোর্টের নিশেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই তুলছেন বালু। নদের পাড়ের ২০ টা পয়েন্টে প্রভাবশালীর নেতৃত্বে বলগেট দিয়ে প্রতিদিনই কোটি টাকার বালু তোলার মহোৎসবে বালুর পাহাড় সাজিয়েছে এই সিন্ডিকেট। বালুর পাহাড় গুলি প্রশাসনের মাধ্যমে জব্দ করে রাখা এলাকাবাসীর দাবী।
বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙ্গনে অতিষ্ট চরাঞ্চল এলাকার মানুষ। বালু উত্তোলনে বাধা দিলে তাদেরকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। তবে এসব প্রভাবশালিদের দাবী, তারা নিয়ম মেনেই বালু তুলছেন এবং নিষেধাজ্ঞার অধীন এলাকায় বালু তুলছেন না। বালু ব্যবসায়ী ও উত্তোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বালু তোলার সঙ্গে জড়িত হিসাবে রৌমারী উপজেলার ফলুয়ারচর নৌকা ঘাটে যারা নাসির উদ্দিন (অব:) আর্মি, নুর আলম খাঁন হিরো, ফারুক আহমেদ, মামুন, জায়দুল ইসলাম,
জেন্নাহ (অব:) আর্মি এবং বাইশ পাড়া ঘাট থেকে বলদমারা ঘাট পর্যন্ত যারা আমজাদ হোসেন, হারেজ আলী (অব:) আর্মি, রাশেদুল/সিরাজুল, এরশাদ আলী, এবাদ আলী, সাইফুল ইসলাম ও সুরুজ্জামান। রাজিবপুরে যারা বালু তোলার সাথে জড়িত তারা হলেন, রাকু, শাহিন, ফুলচাঁন, ইয়াকুবসহ ৭ জন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ব্রম্মপুত্র নদ থেকে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার প্রায় ২০ টি পয়েন্টে বালুর পাহাড়ে স্তুপ করা হয়েছে। ড্রেজার বসিয়ে ব্রম্মপুত্র নদে নিশেধাজ্ঞা এলাকা থেকে তোলা হচ্ছে বালু। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ওইসব এলাকা। এভাবে বালু তোলায় নদী তীরবর্তী এলকার বাসিন্দাদের ভিটেমাটিসহ জমি জিরাত, গাছ পালা, ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ মাদ্রাসা ভাঙ্গনের কবলে রয়েছে।
বলদমারা এলাকার বাসিন্দা ফয়জার রহমান, জয়নুদ্দিনসহ অনেকেই বলেন, এসব রক্ষার জন্যই সরকার অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে ব্রম্মপুত্র নদে বালু তোলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ব্রম্মপুত্র নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে বা বালু স্তুপের উপর ব্যবস্থা নেয়া হয় নি প্রশাসনের। যে জন্য বন্ধ হয়নি বালু তোলা। সে কারনেই হুমকির মুখে ফসলি জমি, বসতভিটাসহ নানা স্থাপনা।প্রশাসনের নিকট, আমাদের আকুতি, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহন এবং বালু স্তুপ গুলো জব্দ করে তাদের নামে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা। ফলুয়ারচর ঘাটে আসা খঞ্জনমারা গ্রামের নুরুল আমিন, গত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে সরকারি আইন অমান্য করে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছিল। তার পরেও জোড় পুর্বক বালু উত্তোলন করে চলছে। ঘাটের পাশে আমার প্রায় ৩০ বিঘা জমি ছিল। বালু খেকো সিন্ডিকেটের কারনে ভেঙ্গে নদীতে চলে গেছে। আমি বিভিন্ন ভাবে পদক্ষেপ নেয়ার পরেও রহস্যজনক কারনে বন্ধ হয় নি বালু উত্তোলন।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হাজার হাজার পরিবার নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও কিছু অসাধু নামধারী সাংবাদিক, বালু তোলায় জড়িতদের কাছ থেকে নিয়মিত নেয়া হচ্ছে মাসোয়ারা। তাদের জোড়েই ব্রম্মপুত্র নদের বুকে নিশেধাজ্ঞার অধীন থেকে বালু তোলা হচ্ছে।
অবৈধভাবে বালূ উত্তোলনকারীদের মধ্যে অবসর আর্মি নাসির উদ্দিন, নুর আলম খানের নিকট জানতে চাইলে তারা জানান, আমরা নিয়ম নীতি মেনে, রৌমারী উপজেলার বাইরে থেকে বালূ উত্তোলন করে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। এতে নদী ভাঙ্গনে সমস্যা হচ্ছে না।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিন বলেন, ব্রম্মপুত্র নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে নিশেধাজ্ঞা রয়েছে। কেউ বালু তুললে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রৌমারী রাজিবপুরে ২০টি পয়েন্টে প্রভাবশালীর নেতৃত্বে বালু তোলার মহোৎসব : এলাকাবাসী অতিষ্ঠ
