ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করে হল ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার গঠিত হয়েছে তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। গতকাল শনিবারদুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত শুক্রবাররাতের ঘটনায় গতকাল শনিবার একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী সাতদিনের জন্য সব প্রকার ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আজ রোববার সকাল ৮টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এদিন দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল আলম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কলেজের অধ্যাপক ডা. সেহেলী জান্নাত সুলতানাকে সভাপতি করে এই তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. শামীমুল মাসুদ আহমেদ এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল হক। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ১৭ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের বাঘমাড়া ছাত্র হোস্টেলে ছাত্রদলের দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুজন আহত হয়েছে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন- মো. মুয়াজ ও মীর হামিদুর। তারা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মো. মুয়াজ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী এবং মীর হামিদুর কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের কর্মী। পুলিশ ও কলেজ সূত্র জানায়, কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী মুয়াজ গত শুক্রবাররাতে মীর হামিদুরের কক্ষে যান। সেখানে বাইকে তেল ভরাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে মীর হামিদুর চা খেতে বাইরে গেলে স্টিলের পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে হামিদুরের পক্ষের সদস্যরা মুয়াজকে ধাওয়া করলে তিনি একটি কক্ষে ঢুকে নিজেকে আটকে রাখেন। এরপর মুয়াজকে উদ্ধার করতে তার গ্রুপের সদস্যরা এগিয়ে এলে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, রাতভর ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসা নেওয়ার পর সকালে মুয়াজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হামিদুর হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে। এই দুইজনের মাথায় আঘাত করা হয়েছে। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে নাফিউল ইসলাম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল ছাত্রদলের সংঘর্ষ: ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত, তদন্তে কমিটি
