সরকারি কোষাগারে ফেরৎ দিতে হবে”ভূয়া শিক্ষক” হাবিবুর রহমান কে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা, শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠি

শামীম আলম
জামালপুরে ভূয়া শিক্ষক হাবিবুর রহমানের নিবন্ধন সনদ জাল হওয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক ইনডেক্স কর্তন করেছেন এবং এমপিওভুক্তির তারিখ হতে বেতন ভাতা ফেরৎ এর নির্দেশ দিয়েছেন।ইনডেক্স কর্তনের জন্য আবেদন করেছেন “দৈনিক সময়ের কণ্ঠ”পত্রিকা’র সাংবাদিক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। জেলা প্রতিনিধি জামালপুর। আবেদন করেছেন ২৮-০৯-২৫ তারিখে।
সোমবার(২০ এপ্রিল২৬)অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেট,ইসলামপুর বাজার শাখা,ম্যানেজার খুরশেদুল আলম বলেন,হাবিবুর রহমান ২০২৩ মার্চ থেকে ২০২৬ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত চাকরী বাবদ মোট উত্তোলনকৃত টাকার পরিমাণ ৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার উপরে অর্থাৎ প্রায় ১০লক্ষ টাকা।
সোমবার(১২ জানুয়ারি২৬) মুর্শিদা করিম,পরিদর্শক(ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ)মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক আবেদনকারী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম কে ইনডেক্স কর্তনের শুনানীতে সকল প্রমাণকসহ উপস্থিত থাকার জন্য চিঠি দেন।
জামালপুর জেলাধীন ইসলামপুর উপজেলার অন্তর্গত ১০নং গাইবান্ধা ইউপি মরাকান্দি নছিমুন্নেছা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার এনামুলের সহযোগিতায় সহকারী মৌলভী ভূয়া শিক্ষক হাবিবুর রহমান তার নিবন্ধন সনদ জাল।তিনি ১২তম নিবন্ধন জাল সনদ দেখিয়ে মাদ্রাসায় যোগদান করেছেন,২৬-১২-২০১৫ইং তারিখে অথচ ১২তম নিবন্ধন পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে ৪ মার্চ ২০১৬ সালে।মজার বিষয় হচ্ছে বিয়ের আগে বাচ্চা হয়েছে।জানা যায়,দোসর আওয়ামীলীগের উলামালীগের পাওয়ার খাঁটিয়ে এই হাবিবুর রহমান নিবন্ধন সনদসহ একাডেমিক সনদ ও কওমী মাদ্রাসার কাফিয়ানা সনদ জালিয়াতির মূল হোতা বানিজ্য করতেন।সনদ জালিয়াতি করে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা পাড় করছেন বিলাসবহুল জীবন এবং প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি দিয়ে আসছেন সাংবাদিক নজরুলকে।কিন্তু থামাতে পারিনি এই অকোতভয় নির্ভীক সাহসী কলম সৈনিক সাংবাদিক নজরুলকে।এ বিষয়ে “দৈনিক সময়ের কণ্ঠ”পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম অভিযোগকারী হয়ে বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ(এনটিআরসিএ) মহাপরিচালক বরাবর২২-০৪-২৫ ইং তারিখে অভিযোগ দেন সনদটি জাল ও ভূয়া।পরবর্তীতে ১৫-০৯-২৫ ইং তারিখে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে যাচাই বাছাই পূর্বক সহকারী পরিচালক মো:সাইফুল ইসলাম (পরীক্ষা মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন-২) এনটিআরসিএ,ঢাকা, প্রতিবেদন দেন হাবিবুর রহমানের নিবন্ধন সনদটি জাল ও ভূয়া।সনদটি সঠিক নয়।ফলে ২৮-০৯-২৫ ইং তারিখে ভূয়া সনদের বিরুদ্দে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালক(অতিরিক্ত সচিব) বরাবর ইনডেক্স কর্তনের জন্য আবেদন করেন মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী পরিচালক(প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মাহবুবুল হক আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব দেন সহকারী পরিচালক(সরকারি ও সিনিয়র মাদ্রাসা)মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর মো:আসাদুজ্জামান সাহেব কে।তাঁর সহযোগিতায় জনাব মুর্শিদা করিম,পরিদর্শক(ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ)মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর,ভূয়া শিক্ষক হাবিবুর রহমান,সভাপতি/মাদ্রাসা সুপার এনামুল এবং আবেদনকারী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম কে গত ১৯-০১-২৬ ইং তারিখে বেলা ১১:০০ঘটিকায় শুনানীর জন্য উপ-পরিচালক(প্রশাসন) এর অফিস কক্ষে সকল তথ্য প্রমাণকসহ স্বশরীরে উপস্থিত হওয়ার জন্য চিঠি দেন।
অভিযোগকারী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নির্দিষ্ট সময়ে উপর্যুক্ত প্রমাণকসহ উপ-পরিচালক(প্রশাসন)এর অফিস কক্ষে উপস্থিত হন এবং ভূয়া শিক্ষকের প্রমাণ দেখান ও পুংখানুপুংখভাবে ব্যাখ্যা করেন।
কিন্তু ভূয়া শিক্ষক হাবিবুর রহমান ও দূর্নীতিবাজ সুপার এনামুল ইনডেক্স কর্তনের শুনানীতে উপস্থিত হননি এবং কোন প্রমাণ দেখাতে পারেননি।ফলে মুর্শিদা করিম,পরিদর্শক(ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ)মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক ১৭-০২-২০২৬ ইং তারিখে প্রতিবেদন দেন সনদটি জাল ও ভূয়া।সনদটি সঠিক নয়।উক্ত ঘঞজঈঅ প্রতিবেদন এবং পরিদর্শকের প্রতিবেদনদ্বয় জাল ও ভূয়া প্রমাণিত হওয়ায় মহাপরিচালক ( মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর )কর্তৃক ১৬-০৩-২০২৬ ইং তারিখে ৫৭.২৫.০০০০.০০২..০৮.০১০.২৬.৬৭ নং স্মারকে ইনডেক্স কর্তনের মিটিংএ ভূয়া শিক্ষক হাবিবুর রহমানের মার্চ ২০২৬ এমপিও শীট থেকে নাম এবং ইনডেক্স গ০০৩৮৫৮৩ কর্তন করেন এবং সুপার এনামুলকে,নির্দেশ প্রদান করেন যে,জাল সনদে চাকরি করা শিক্ষকের এমপিও ভুক্তির তারিখ হতে উত্তোলনকৃত বেতন ভাতা চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান পূর্বক অত্র অধিদপ্তরে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল ।তাছাড়া উক্ত প্রতিষ্ঠানে আরোও ০৬ জন শিক্ষকের সনদ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।খুব শীঘ্রই তাদের তথ্য প্রকাশ করা হবে।দূর্নীতিবাজ সুপার এনামুল ও ভূয়া শিক্ষক হাবিবুর রহমানকে আইনের আওতায় আনতে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী,শিক্ষা মন্ত্রী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক সকল সনদ জালিয়াতির তথ্য পাওয়া যাবে।