সাতক্ষীরায় বিষমুক্ত আম সংগ্রহ শুরু, লক্ষ্যমাত্রা ৭১ হাজার মেট্রিক টন

সাতক্ষীরার বিখ্যাত ও সুস্বাদু আম বাজারজাতের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে সদর উপজেলার ফিংড়ী এলাকার একটি আমবাগানে ‘নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম সংগ্রহ উৎসবের’ উদ্বোধন করা হয়। নিরাপদ ও কেমিক্যালমুক্ত আম নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে গাছ থেকে আম পেড়ে এই উৎসবের সূচনা করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আম সংগ্রহের উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপি, মনিরুল ইসলাম মিনি, স্থানীয় প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী, জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের অন্য কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং আমচাষিরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল বলেন, সাতক্ষীরার আমের বিশ্বজুড়ে সুনাম রয়েছে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে চাষিদের অবশ্যই কেমিক্যালমুক্ত আম বাজারজাত করতে হবে। ভোক্তা পর্যায়ে নিরাপদ ফল পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, আমের গুণগত মান বজায় রাখতে কৃষকদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম সংগ্রহ করতে হবে। এতে ফলন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে এবং রফতানিযোগ্য মান বজায় থাকে। এ ছাড়া অপরিপক্ব ও রাসায়নিকযুক্ত আম বাজারজাতকরণ ঠেকাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কঠোর নজরদারি রাখছে বলেও জানানো হয়। তিনি আরও জানান, জেলায় ৪,১৪০ হেক্টর জমিতে মোট ৫,৩৫০টি আম বাগান রয়েছে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন এবং রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০০ মেট্রিক টন। জেলায় মোট ১২ হাজার ৫০০ জন আমচাষি নিবন্ধিত রয়েছেন। উল্লেখ্য গত বছর ৪,১৩৭ হেক্টর জমিতে ৬৬ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছিল। চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে সঠিক নিয়মে আম বাজারজাতকরণের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন অতিথিরা। আমচাষি বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, বিগত তিন বছরের মধ্যে এ বছর আমের ফলন সবচেয়ে ভালো হওয়ায় চাষিদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সঠিক সময়ে আম সংগ্রহ শুরু হওয়ায় ভালো দাম পাওয়ার বিষয়েও আমরা আশাবাদী।