জাপানের বৃহত্তর নাগোয়া শহরে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জাপানের ‘সিবুকাওয়া ওয়েলফেয়ার সেন্টারে’ বাংলাদেশ কমিউনিটির পক্ষ থেকে ইসলামিক মিশন জাপান, নাগোয়া শাখার তত্ত্বাবধানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ড. মাজেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান উদ্বোধন হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নাগোয়া শহরসহ বৃহত্তর আইচি প্রিফেকচারে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশাজীবীসহ উল্লেখযোগ্য প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিতি ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৫ জনসহ বিএনপির আরও একজন নেতা তাদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। সুযোগ থাকার পরও তারা অন্যায়ের পক্ষে বা ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করেননি। উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা আমাকে সংবর্ধনা দিয়ে আসলে বাংলাদেশকেই সম্মানিত করেছেন। প্রবাসে থেকেও আপনারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন। গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রবাসীরা রেমিট্যান্স শাটডাউনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই যেখানে গণভোট ব্যর্থ হয়েছে। তাই বাংলাদেশেও গণভোট ব্যর্থ হবে না। দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়ে নিজেদের রায় জানিয়ে দিয়েছেন। এখন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা মানে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অপমান করা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। নাগরিক সংবর্ধনার পাশাপাশি ইসলামিক মিশন জাপানের উদ্যোগে একটি পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়, যেখানে সব শ্রেণি-পেশার প্রবাসীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া উপস্থিত শিশুদের জন্য ছিল ইসলামিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
জাপানে জামায়াত আমিরকে নাগরিক সংবর্ধনা
