দেশের জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সক্ষমতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের ভূমিকার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য ও সামর্থ্যরে সবটুকু দিয়ে কাজ করবেন; এটাই আপনাদের কাছে সরকারের প্রত্যাশা।’ গতকাল রোববার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেছেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্রজনতার এক রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের স্বাধীনতা প্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার। “বছরের পর পর ধরে অসংখ্য হামলা-মামলার শিকার নির্যাতিত-নিপীড়িত অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে শান্তি এবং নিরাপত্তা চায়।”
‘পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার নয়’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদেরকে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়। “স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আসুন আজ আমরা আবারো নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।” ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমান করেছে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন সম্ভব। “শুধু দেশেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা এবং সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বিশে^র বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।” সরকারপ্রধান বলেন, “জাতিসংঘের শান্তি মিশনে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। “শুধু বিদেশেই নয়, দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত।” প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালে রাজারবাগে পুলিশ লাইন্সে পাক হানাদার বাহিনীর বর্বর হামলায় শহীদ পুলিশ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “শুধুমাত্র স্মরণের মধ্য দিয়েই আপনাদের-আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতার অর্জনের জন্য যেসব শহীদ পুলিশ সদস্য আত্মত্যাগ করেছিলেনৃযেকোনো মূল্যে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। “একদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার ‘উই রিভোল্ট’; অপরদিকে ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধ এরপর স্বাধীনতার লড়াই থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের পিছিয়ে থাকার আর কোনো সুযোগ ছিলো না।” তারেক রহমান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রজন্ম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্ম আমরা যারা ইতিহাস পড়ে কিংবা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা শুনে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জেনেছি, তাদের মনে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন ইতিহাস নিয়ে এখনো কিছু প্রশ্ন হয়ত রয়েছে। “১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে জনগণ যখন স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে টান টান উত্তেজনা এমন পরিস্থিতিতে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে যখন ঢাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য জড়ো করা হচ্ছিলৃ এমন পরিস্থিতিতে সকল পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একসঙ্গে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কি যুক্তি বা কৌশল কাজ করেছিল? বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যারা এখনো গবেষণা করে চলছেন, এটি এখনো তাদের জন্য একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে বলে আমি মনে করি।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের এই আনন্দঘন আয়োজনে এতক্ষণ আপনাদের বর্ণিল প্যারেড উপভোগ করেছি। আমার কাছে এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা মনে হয়নি, বরং এটি ছিল পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা, দায়িত্ববোধ এবং সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলার অবিচল অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।” এর আগে পুলিশের বার্ষিক প্যারেডের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের পুলিশ সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য-‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল, দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহন করেন প্রধানমন্ত্রী। একটি খোলা জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) স্টল পরিদর্শন করেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে পর এটিই বিএনপির সরকারের সময়ে প্রথম পুলিশ সপ্তাহ।
জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: পুলিশের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
