হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধের ঘোষণা ইরানের

লেবাননে ইসরাইলি হামলার জেরে হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সদ্য হওয়া ভঙ্গুর সমঝোতা নতুন সংকটে পড়েছে। একই সময়ে সুইজারল্যান্ডে আলোচনায় বসতে রওনা হয়েছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। গত শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে পরবর্তী দফার আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে ইসরাইলের চার সেনা নিহত হওয়ার পর, লেবাননে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হলে শেষ মুহূর্তে সেই বৈঠক স্থগিত করা হয়। এরপর গত শুক্রবার ওয়াশিংটন নতুন করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। এটি ছিল ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতার একটি শর্ত। কিন্তু গত শনিবার আবারও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনা ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় পক্ষই পরস্পরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘চুক্তি ভঙ্গ’ ও ‘দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি অব্যাহতভাবে লঙ্ঘনের’ অভিযোগ এনে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ঘোষণা দেয়, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।’ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ ইউনিটও জাহাজগুলোকে ওই জলপথের কাছাকাছি না যেতে সতর্ক করে। তারা জানায়, সেখানে গেলে জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশে^র তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী। যুদ্ধ চলাকালে দীর্ঘ সময় এটি অবরুদ্ধ থাকে। ফলে বৈশি^ক জ্বালানি বাজারে বড় ধরণের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে তেহরান প্রণালীটি পুনরায় খুলতে রাজি হয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচলও স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে ইরানের নতুন ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, আন্তর্জাতিক এই নৌপথে নিরাপদ চলাচল এখনো বজায় রয়েছে। মার্কিন বাহিনী সেখানে উপস্থিত ও সতর্ক অবস্থানে আছে। পরে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, আলোচকরা যদি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন, তাহলে ওয়াশিংটন নিজস্ব টোল আরোপ করতে পারে। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরোপিত না হলে কোনো টোল থাকবে না।’