হামের টিকা কর্মসূচিতে আগের সরকারের গাফিলতি থাকার বিষয়টি সরকারের কাছে ‘স্পষ্ট’, এই বিষয়ে নতুন করে ‘তদন্তের প্রয়োজন দেখছেন না’ প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। গতকাল রোববার সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে বিশেষ সহকারী বলেন, “গাফিলতি তো আছেই, আমরা তো বলেই দিয়েছে। তাদের গাফিলতির কারণেই তো ২০২৪-২৫ এর যে টিকার রাউন্ড, সেটা টিকার রাউন্ডটা পুরোপুরি মিস করা হয়েছে।” তিনি বলেন, “ভ্যাকসিন কেনা হয়নি, পরিবার পরিকল্পনাসামগ্রীও কেনা হয়নি। এখানে গাফিলতি আছে, এটা নিঃসন্দেহে আমরাৃ এজন্য তো কোনো তদন্ত করার দরকার নেই। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গেল তিন মাসের বেশি সময়ে হাম ও এর রোগের উপসর্গ নিয়ে ৬৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজারের বেশি, আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা লাখের কাছাকাছি। মার্চে হামের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা এবং এক মাসের মধ্যে প্রায় শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় সাফল্য বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সহকারী। হামের টিকা নিয়ে গাফিলতির তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, এমন প্রশ্নে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “এটাতো আমরা প্রথম দিন থেকেই পরিষ্কার করেছি যে, প্রথমতো হামের যে ২০২০ এবং ২০২১ এর যে টিকার রাউন্ড, এই রাউন্ডটা, আপনার তথ্যে দেখা যাচ্ছে যে মোটামুটি কাভারেজ ভালোই ছিল। “আমরা সবাই জানি ২০২০-২১ ছিল কোভিডের সময়, কোভিড চলাকালীন আমাদের পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ব্যাহত ছিল, তখন কতটা, আপানার আসলেই কতটা শিশুকে টিকা দেওয়া গেছে, এটা নিয়ে আমার ব্যক্তিগতভাবে সন্দেহ আছে।” প্রতি চার বছর পরপর টিকার রাউন্ড হয় তুলে ধরে তিনি বলেন, “২০২৪ এর নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ এর জানুয়ারি পর্যন্ত আরেকটা রাউন্ড হওয়ার কথা ছিল। এই রাউন্ডটা একেবারেই হয়নি। “না হওয়ার কারণ ছিল, তৎকালীন সরকার (মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার) তারা হঠাৎ করেই অপারেশন বন্ধ করে দিয়ে তারা ডিপিপিতে মাইগ্রেট করলো, কিন্তু ডিপিপির মাধ্যমে অর্থায়নের যে ব্যবস্থা, এই ব্যবস্থা তখন ছিল না। টাকার অভাবে তারা টিকা কিনতে পারেনি, পুরা রাউন্ডটাই ছিল তারা মিস করেছে।” প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, “এবার যারা হামে আক্রান্ত হয়েছে, যেসব বাচ্চারা, দেখা গেছে, সেগুলো জন্মগ্রহণ করেছে ওই সময়ে। ২০২৩-২৪ ওই সময়ে, যারা কখনোই হামের টিকা পায়নি। মায়েদের অপুষ্টিও এবারের হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ হিসেবে তুলে ধরে ধরেন জিয়াউদ্দিন হায়দার। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সংকটে পড়েছে তুলে ধরে বিশেষ সহকারী বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী বর্তমানে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দপ্তরে যাচ্ছেন। সেখানে প্রয়োজনীয় আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে দ্রুত ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়।
হামের টিকায় আগের সরকারের গাফিলতি ‘স্পষ্ট’, তদন্ত ‘দরকার নেই’: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী
