জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি, দর্শন ও সাহিত্যচেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দিতে আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যেখানে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এই বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় কবির সাহিত্যকর্ম, বিদ্রোহী চেতনা এবং মানবিক দর্শনকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি, আলোচনা সভা এবং নজরুল বিষয়ক আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে, যা পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বিস্তারিতভাবে ঘোষণা করবে। কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানো হলেও তাঁর সাহিত্য ও সংগীতচর্চা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও প্রাসঙ্গিক করে তোলার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা হয়ে আসছে। বিশেষ করে তাঁর বিদ্রোহী কবিতা, সাম্যবাদী চিন্তা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা তরুণ সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে কার্যকর হয়ে এই ‘নজরুল বর্ষ’ চলবে এক বছরব্যাপী। সরকারের এ উদ্যোগকে সাংস্কৃতিক মহলে নজরুল চর্চা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে নজরুল জন্মজয়ন্তী ও বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে কবিকে স্মরণ করা হলেও পূর্ণ এক বছরব্যাপী রাষ্ট্রীয়ভাবে এ ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম বড় পরিসরে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন শিক্ষাব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক অঙ্গন এবং গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
জাতীয় কবিকে ঘিরে বিশেষ উদ্যোগ, ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের সিদ্ধান্ত
