বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটরের প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬ জনের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিন গত বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে না পারলেও বোর্ড ও কলেজ কর্তৃপক্ষের বিশেষ তৎপরতায় অবশেষে প্রবেশপত্র হাতে পেয়েছে তারা। গতকাল শনিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীরা তাদের এইচএসসি পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক সূচনা করল। এতে আনন্দ ও স্বস্তি ফিরেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারে। প্রবেশপত্র পাওয়া ৬ শিক্ষার্থী হলেনÑ মো. হাসর, মো. সম্রাট সরকার, মো. তৌহিদুর রহমান তামিম, মো. মইনুর ইসলাম, মো. অমিত হাসান ও মো. সাব্বির হোসেন। তাদের পরীক্ষার কেন্দ্র পড়েছে শিবগঞ্জ সরকারি মোজাফফর হোসেন মহাবিদ্যালয়ে। এ ৬ জনের মধ্যে তৌহিদুর রহমান ও অমিত হাসানের শুধু ইংরেজি আবশ্যিক বিষয়টি থাকায় তারা কেন্দ্রে যায়নি। বাকি ৪ জন বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর আগে, নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ করতে না পারা মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেন কলেজের কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওনÑ এমন অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। অন্য শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দেওয়া হলেও এই শিক্ষার্থীরা তা পায়নি। একপর্যায়ে গত বুধবার রাত থেকে মুঠোফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেন ওই কর্মী। পরীক্ষা শুরুর দিন সকালে প্রবেশপত্র না পেয়ে কলেজের সামনে অবস্থান নেন ভুক্তভোগীরা। এর ফলে প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা দেওয়া থেকে বঞ্চিত হয় তারা। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তৎপর হয় জেলা প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান জানান, বুধবার সন্ধ্যার দিকে এক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে তারা প্রথম বিষয়টি জানতে পারেন। এর আগে কলেজ কর্তৃপক্ষ এই জালিয়াতির বিষয়ে অন্ধকারে ছিল। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসক আমাদের বোর্ডে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আমরা গত শুক্রবার ভোরেই বোর্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে সাড়ে আটটার মধ্যে পৌঁছাই। যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে বোর্ড কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ে অ্যাডমিট কার্ড সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ১০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দেওয়ার বিষয়ে দাবি করা হলেও আমরা ৬ জনের নাম পেয়েছি। তাদের সবার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর বিশেষ বিবেচনায় এভাবে পুনরায় পরীক্ষায় বসার সুযোগ করে দেওয়া একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। শিবগঞ্জ সরকারি মোজাফফর হোসেন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আসাদ জানান, বোর্ড থেকে প্রবেশপত্র আসার পর তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রে সব ধরনের যথাযথ ও সন্তোষজনক ব্যবস্থা করা হয়। পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. সম্রাট সরকার বলে, আমরা সত্যি অনেক খুশি যে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করার দিকে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারছি। পরীক্ষা দিতে না পেরে যখন ভেঙে পড়েছিলাম, তখন কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিক ভাইয়েরা পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ, তারা যেন আমাদের মতো ভুল না করে। সব কাগজপত্র যেন সরাসরি কলেজের মাধ্যমে জমা দেয়, কোনো দালালের খপ্পরে না পড়ে। আরেক শিক্ষার্থী মইনুর ইসলাম বলে, একটা বছর জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু যখন স্যার ফোন দিয়ে বললেন অ্যাডমিট কার্ড তৈরি হয়েছে, তখন যে কী আনন্দ লেগেছে বোঝাতে পারব না। শিক্ষার্থী সম্রাটের মা নার্গিস আক্তার কলেজ ও বোর্ড কর্তৃপক্ষসহ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ছেলে পরীক্ষা দিতে পারায় আমাদের মনে অনেক খুশি। তবে এই ধরনের জালিয়াতি যেন আর কোনো কলেজে বা কোনো শিক্ষার্থীর সাথে না ঘটে, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত।
বগুড়ায় প্রতারণার শিকার সেই ৬ শিক্ষার্থী পেলো পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ
