হরমুজ প্রণালীতে ২টি তেলবাহী জাহাজে ইরান ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সংযুক্ত আরব আমিরাত গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের সময় তাদের দুটি তেলবাহী জাহাজে ইরান ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে এক নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত এ তথ্য জানিয়েছে। এই হামলার আগে তেহরানে নতুন করে এক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তেলসমৃদ্ধ সংযুক্ত আরব আমিরাত এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশটি এর আগেও ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ দিয়ে যাওয়ার সময় ‘মোম্বাসা’ ও ‘আল বাহিয়াহ’ নামের দুটি জাতীয় তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে দুটি ইরানি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, হামলায় একজন ভারতীয় নাগরিক নাবিক নিহত হয়েছে। এছাড়া আটজন আহত হয়েছেন, আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হামলার ফলে উভয় জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানানো হয়। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি বলে উল্লেখ করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানে নতুন করে এক দফা হামলা চালায়। এর পরপরই হরমুজ প্রণালিতে এই হামলার ঘটনা ঘটল, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এদিকে, গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত সব পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে, যাতে নৌপথটি সচল রাখার ব্যয় মেটানো যায়। একই সঙ্গে গত মাসে প্রত্যাহার করা ইরানি জাহাজের ওপর অবরোধও পুনর্বহালের ঘোষণা দেন তিনি। সূত্র: এএফপি