বান্দরবানের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সানিউল ফেরদৌস বলেছেন, বান্দরবানের বন্যা-দুর্যোগ পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। এসময় জেলা প্রশাসক বলেন, বান্দরবানের অসংখ্য জনগণের জীবিকা এ পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত। আর পর্যটন শিল্প বন্ধ থাকায় অনেকেই এখন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তাই ১৫ তারিখের পরে বড় ধরনের কোনো দুর্যোগ না থাকলে ১৬ জুলাই থেকে বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্রগুলো আবার চালু হবে। তিনি বলেন, এ দুর্যোগে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি আর এভাবে কাজ করলে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বিরূপ পরিস্থিতি এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কায় পর্যটক ও সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ৮ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত বান্দরববানের সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। জেলার বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, গত ৬-১৩ জুলাই পুরো সময়টা জুড়ে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে বান্দরবানে আর এসময়ে মোট ৫১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় দুই মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, এসময়ে সাংগু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বিপৎসীমার সর্বোচ্চ ২.৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সাংগু নদীর পানি বিপৎসীমার ৫.৪৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৩.৭১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৭টি পয়েন্টে পাহাড়ধস হয়েছে আর এর মধ্যে বড় আকারের ছিল ১১টি। পাহাড়ধস ও গাছ ভেঙে ২১টি পয়েন্টে সড়ক বন্ধ ছিল। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং ক্ষেত্র বিশেষে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সড়কগুলো সচল করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে দুটি পাহাড় ধসে লামা উপজেলায় পাঁচজনের মৃত্যু এবং পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৬১ কিলোমিটার ও এলজিইডির ৯০ কিলোমিটার সড়ক সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছোট/বড় চারটি ব্রিজ/কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এর মধ্যে একটি ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে, বাকি তিনটির কাজ চলছে। জেলার মোট আশ্রয়কেন্দ্র ছিল ২২০টি, যার মধ্যে ৬৭টিতে মানুষ উঠেছে। এছাড়া কিছু ধর্মীয়/সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণাধীন ভবনে মানুষ আশ্রয় নেন। বর্তমানে আশ্রয় গ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা দুই হাজার ৫৮২। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১২ হাজার ৫০০। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা লামা পৌর এলাকা, বান্দরবান পৌরসভা ও সদর উপজেলা। মোট আক্রান্ত ইউনিয়ন ৩৪টি। সে মতে, জেলার ৭০ শতাংশ এলাকা জলাবদ্ধ হয়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদপ্তর থেকে এ পর্যন্ত ৪০০ টন চাল ও ২০ লাখ টাকা ও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। আর সেগুলোর মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ত্রাণ বিতরণে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ, আনসার, বিজিবি, সেনাবাহিনী, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিএনপির কর্মী, এনজিও বিশেষ করে ব্র্যাক, গ্রাউস, ওয়ার্ল্ডভিশন ও রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরা একযোগে কাজ করছেন। এসময় জেলা প্রশাসক এ দুর্যোগে গণমাধ্যমকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা স্বীকার করেন এবং বিভিন্ন তথ্য দিয়ে আগামীতেও জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে বান্দরবানে পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, পৌরসভার প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক, বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব, প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চুসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
পরিস্থিতি ভালো হলে কাল থেকে খুলবে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র
