বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগনের মুম্বাইয়ের জুহুর একটি সম্পত্তির অংশবিশেষ ভেঙে দিয়েছে বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (বিএমসি)। অনুমোদনহীন নির্মাণের অভিযোগে গত ১২ অক্টোবর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে অজয়ের টিম জানায়, সম্পত্তিটি অভিনেতার ব্যক্তিগত বাসভবন নয়; এটি ভাড়া দেওয়া একটি পৃথক সম্পত্তি। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং বিএমসির নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবর্তন ও সংস্কারের কাজও করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুহুর কাপোল কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিতে অবস্থিত প্রায় ৭ হাজার ৮০২ বর্গফুটের সম্পত্তিটি অজয় দেবগন ও তার মা বীণা দেবগনের মালিকানাধীন। সেখানে অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন, পার্টিশন দেয়াল নির্মাণ ও জানালা স্থাপনসহ বিভিন্ন কাজ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই চলছিল বলে অভিযোগ বিএমসির। বিষয়টি নিয়ে অজয় দেবগনের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা স্পষ্ট করতে চাই, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিটি অজয় দেবগনের বাসভবন নয়; এটি ভাড়া দেওয়া একটি পৃথক সম্পত্তি। আমাদের একটি সম্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতির আবেদন বিএমসির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। বিএমসির প্রযোজ্য সব নিয়ম, বিধিবিধান ও নির্দেশনা আমরা যথাযথভাবে মেনে চলছি। বিএমসির প্রয়োজন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, সংশোধন ও সংস্কারের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।” প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্পত্তিটি ফ্লোরিয়ান হুরেল স্যালন প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। ২০২৬ সালের ১০ আগস্ট নিবন্ধিত পাঁচ বছরের চুক্তির আওতায় সম্পত্তিটি ভাড়া দেওয়া হয়। চুক্তিতে মোট ১০ কোটি ৬১ লাখ রুপির কথা উল্লেখ রয়েছে; প্রাথমিক মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ লাখ রুপি। সম্পত্তিটি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের বিষয়ে আপত্তি জানায় কাপোল কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি। সোসাইটির পক্ষ থেকে ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া হলেও, তাদের দাবি-এ অনুমতি কাঠামোগত পরিবর্তন বা আবাসিক সম্পত্তিকে বাণিজ্যিক কাজে রূপান্তরের অনুমোদন দেয়নি। এছাড়া, সম্পত্তিতে গ্রাহকদের যাতায়াত বেড়ে যাওয়া, গাড়ি রাখার জায়গার সংকট, নিরাপত্তা এবং সোসাইটির সরু অভ্যন্তরীণ সড়কে শব্দদূষণ নিয়েও বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর আগে, ১০ সেপ্টেম্বর বিএমসির বিল্ডিং প্রপোজাল বিভাগ মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন আইন, ১৮৮৮-এর ৩৫৪এ ধারায় নোটিশ দেয়। এতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া সিপোরেক্স ব্লক ও পার্টিশন দেয়াল দিয়ে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ তুলে কাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে বলা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশের পরও কাজ চলতে থাকায় সম্পত্তির কিছু অংশ ভেঙে ফেলার পদক্ষেপ নেয় কর্তৃপক্ষ।
বাসভবন ভাঙচুর নিয়ে যা বললেন অজয় দেবগন
