ঢাকা   ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  পানির দাম ৮০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব অযৌক্তিক: টিআইবি (জাতীয়)        চীনকে মাস্ক-গ্লাভসসহ চিকিৎসা সামগ্রী দিল বাংলাদেশ (জাতীয়)        কচুরিপানা খেতে বলিনি, গবেষণা করতে বলেছি: পরিকল্পনামন্ত্রী (জাতীয়)        দেশে করোনা ভাইরাসের রোগী মেলেনি, আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ (জাতীয়)        শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ দ্বিতীয়: সেনাপ্রধান (জাতীয়)        ফখরুলের সঙ্গে কথোপকথনের রেকর্ড আছে: কাদের (রাজনীতি)        দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাসের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাংলাদেশ (জাতীয়)        খালেদার প্যারোল নিয়ে কাদেরের সঙ্গে কথা হয়নি: ফখরুল (রাজনীতি)        দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে বিতরণ কোম্পানিগুলোর ভূগর্ভস্থ লাইন নির্মাণের উদ্যোগ (জাতীয়)        বকশিগঞ্জ উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত (জামালপুরের খবর)      

রংপুরে করতোয়ার তীরে বালু উত্তোলনের মহোৎসব বন্ধ হয়নি আজও

Logo Missing
প্রকাশিত: 08:38:02 pm, 2019-02-24 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

আজ ডেক্সঃ রংপুর-দিনাজপুর জেলাকে বিভক্ত করে প্রবাহিত করতোয়া নদীর দু’ধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব আজও বন্ধ হয়নি। উপজেলা প্রশাসন বালু উত্তেলনকারীদের বিরুদ্ধে নামমাত্র ভ্রাম্যমান আদালত চালিয়েই তাদের দায়িত্ব সেরেছেন। গত ১৪ ফেব্রুয়ারী পীরগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বড় আলমপুর ইউনিয়নের ২ টি স্থানে ভ্রাম্যমান অভিযান চালিয়ে ২ ব্যক্তিকে আটক করেন। হাতকড়া পরিয়ে দু’জনকে গাড়ির ভেতর বসিয়ে রেখে চতরা হাটে অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদ করতে গেলে সুযোগ বুঝে আতোয়ার রহমান নামের এক ব্যক্তি হাতকড়া সহ পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর ১০ দিন অতিবাহিত হলেও পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে আটক বা হাতকড়াটি উদ্ধার সম্ভব হয়নি। এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে হাত পা গুটিয়ে বসে আছেন। ফলে কোনভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না অবৈধ বালু উত্তোলনকারিদের। এদিকে অপরিকল্পিতভাবে যত্র তত্র বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙ্গছে নদীর পাড়, বিলীন হচ্ছে বসত-বাড়ী, রাস্তাঘাট,গাছপালা,ফসলী জমি,বিচ্ছিন্ হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। সর্বশান্ত হচ্ছে নদীপাড়ের নিরীহ মানুষ। সরেজমিন উপজেলার করতোয়া নদী বেষ্টিত চকভেকা, ধর্মদাধপুর, রামনাথপুর, টিওরমারী, তরফমৌজা, জন্তীপুর গ্রামে এ অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। এ দৃশ্য শুধু ওইসব গ্রামেই নয়। করতোয়ার ধার ঘেষাঁ পীরগঞ্জ উপজেলার ৩ ইউনিয়নের ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অভিন্ন অবস্থা বিরাজ করছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি)’র দপ্তর থেকে এসব এলাকায় ৩৭ জন বালু উত্তোলনকারীর নামের তালিকা করে তাদের নামে পৃথক নোটিশ দেয়া হলে তালিকাভুক্তদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। এরপর কি এক অজ্ঞাত কারণে সেই প্রক্রীয়া থেমে যাওযায় আবারও শুরু হয় বালু উত্তোলন। অবৈধ বালু উত্তেলনকারীদের মধ্যে এলাকার প্রভাবশালী, জনপ্রতিনিধি এমনকি রাজনৈতিক ব্যক্তিও রয়েছেন। উপজেলার চতরা ইউনিয়নের করতোয়া নদী ঘেঁষা গ্রাম চকভেকা। ৩ শতাধিক পরিবারের বাস ওই গ্রামে। নদী বেষ্টিত গ্রামটির মানুষের একমাত্র পেশা কৃষি। তাঁদের কৃষি জমির বেশীরভাগই নদীর দু’পাড়ে। যা গ্রাস করে যাচ্ছে এক সময়ের খর¯্রােতা প্রমত্তা করতোয়া নদী। সম্প্রতি নদী ভাঙ্গন কবলিত ওই এলাকায় গেলে গ্রামবাসির মধ্যে-এনছার আলী (৬০), নুরুল ইসলাম(৭৫), হোসেন আলী(৬৫), সেরাজ উদ্দিন(৭০) জানায়- এই গ্রামে তাদের সাতপুরুষের বাস। আজ থেকে ৫ বছর আগেও নদীর অবস্থান ছিল প্রায় অর্ধ কি: মিটার দক্ষিনে। প্রতি বছর পালাক্রমে প্রতিযোগিতামুলক স্যালো চালিত মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে তাদের আবাদি জমি, গাছ-পালা, ফলের বাগান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তারা আরও জানায়, তাদের বাঁধা উপেক্ষা করে বালু তোলায় নদীর ভাঙ্গন বসত ভিটা ছুঁই ছুঁই করছে। আরেকবার বর্ষা এলে তাদের ঘরবাড়ী গুলো নদী গর্ভে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই গ্রামের বাসিন্দা চতরা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার শাহজামালের পুত্র সবুজ মিয়া (৩৫), আবদুল কাদেরের পুত্র রেজাউল করিম (৪০) ও আবদুর রশিদের পুত্র সুজন মিয়া (৩০) পৃথক পৃথকভাবে বালু তোলা মেশিন স্থাপন করে লোকজন নিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বালু তোলায় মেতে উঠেছেন। এই বালু তোলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। হয়েছে একটি হত্যা মামলাও। তারপরও থেমে নেই বালু তোলাে কাজ। ওই গ্রামের গৃহিনী জাহানারা বেগম(৫৫) বলেন, নদী ভাঙ্গনের ফলে আমার বিয়ের বছরে শ^শুর চকভেকার গ্রামের আরেক স্থান থেকে উচা জায়গা মনে করে এই জায়গায় এসে বাড়ি করেন। বালু তোলার কারণে নদী ভাঙ্গন বাড়ির কাছে এসেছে। স্থানীয় বাসীন্দা আজিজার রহমান(৮৫) বলেন, ছেলে বয়স থেকে বুড়ো হয়ে গেলাম এখানকার বালু তোলা বন্ধ হলো না। নদী ভাঙ্গন ঠেকানোরও ব্যবস্থা কেউ করলো না। চতরা ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহীন বলেছেন-চতরা ইউনিয়নটি করতোয়া নদী বেষ্টিত। ভাঙ্গন শুধু চকভেকা গ্রামেই নয়। এই ভাঙ্গন ইউনিয়নের চন্ডিদুয়ার, কুয়াতপুর, মাটিয়ালপাড়া,ঘাষিপুর,কুমারপুর,বাটিকামারী, বদনাপাড়া গ্রামকেও গ্রাস করছে। এসব ভাঙ্গন রোধে অচিরেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মান্নান বলেন-আমি নতুন এসেছি। এসব কোন তথ্যই জানা নেই। অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।