ঢাকা   বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  সদর উপজেলাবাসীর আশার আলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াছমিন (জামালপুরের খবর)        বকশিগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের সাথে জনতার সংলাপ (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বিতর্ক প্রতিযোগিতা (জামালপুরের খবর)        খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেনা সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জামালপুরের খবর)        বাল্যবিবাহ মুক্ত ময়মনসিংহ বিভাগ ঘোষণা করায় ইসলামপুরে র‌্যালি ও মানববন্ধন (জামালপুরের খবর)        দেওয়ানগঞ্জে জাতীর পিতার জন্ম শত বার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালি, মানববন্ধন, গন স্বাক্ষর ও শপথ গ্রহন (জামালপুরের খবর)        কুষ্ঠ রোগীদের ওষুধ তৈরী ও বিনামূল্যে বিতরণে স্থানীয় কোম্পানীগুলোর প্রতি আহবান প্রধানমন্ত্রীর (জাতীয়)        খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আসল রিপোর্ট বদলে ফেলা হচ্ছে: ফখরুল (রাজনীতি)        অভিযোগ প্রমাণে শাজাহান খানকে ফের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ইলিয়াস কাঞ্চনের (ঢাকা)        আওয়ামী লীগে কোনও দূষিত রক্ত থাকবে না: ওবায়দুল কাদের (রাজনীতি)      

নদীগুলোতে পানি বাড়ছে, বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা

Logo Missing
প্রকাশিত: 02:05:29 pm, 2019-10-03 |  দেখা হয়েছে: 2 বার।

আ. জা. ডেক্স:

ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা ছাড়া দেশের সব নদ-নদীর পানি বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। ভারী বর্ষণ ও উজানের পানির ঢলে ইতোমধ্যে ছয়টি পয়েন্টে নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান গতকাল বুধবার বলেন, গঙ্গা-পদ্মার পানি বৃদ্ধির প্রবণতা আগামি ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে গঙ্গা-পদ্মা ও গড়াই নদী সংলগ্ন পাবনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও সুরমা-কুশিয়ারার পানি আগামি ৪৮ ঘণ্টা কমতে পারে বলে আরিফুজ্জামান জানান। পানি উন্নয়ন বোর্ড যে ৯৩টি পয়েন্টে নদ-নদীর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে, তার মধ্যে ৫৬টি পয়েন্টে পানি বাড়ছে, কমছে ৩৭টি পয়েন্টে। আর ৬টি পয়েন্টে নদী বইছে বিপদসীমার উপর দিয়ে।

গতকাল বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চেরাপুঞ্জিতে ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর দেশের ভেতরে সুনামগঞ্জে ২৪৫ মিলিমিটার, জাফলংয়ে ১৩৭ মিলিমিটার, কানাইঘাটে ১১৩ মিলিমিটার, ঢাকায় ৭৫ মিলিমিটার, ছাতকে ১৯৯ মিলিমিটার, পাবনায় ৮১ মিলিমিটার ও বরিশাল পয়েন্টে ৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সেপ্টেম্বরের শেষে ভারতের বিহার ও পশ্চিবঙ্গের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের প্রভাবে দেশে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যে বন্যার কারণে ফারাক্কা বাঁধের ১১৯টি গেইটের সবগুলোই সোমবার খুলে দেয় ভারত। এর মধ্যে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী ও মাগুরা জেলার কিছু স্থানে স্বল্প থেকে মধ্য মেয়াদী বন্যা দেখা দেয়।

প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান বলেন, উজানে বৃষ্টিপাত কমে এলে চলতি সপ্তাহের শেষার্ধ থেকে গঙ্গা নদীর পানি কমতে পারে, তখন বন্যা পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে। অক্টোবর মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ জানান, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি নিম্নচাপের সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে। অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু (বর্ষা) বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেবে। বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

পাবনা: আকস্মিকভাবে পানি বেড়ে সৃষ্ট বন্যায় পাবনার পদ্মা তীরের ৩০টি গ্রামের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাবনার সদর, ঈশ্বরদী ও সুজানগর উপজেলার ৩০টি গ্রামের মানুষ পনিবন্দি হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ। টানা বৃষ্টি এবং উজানে পানি বাড়ায় দেশের পশ্চিমাঞ্চলে, বিশেষ করে পদ্মা অববাহিকার রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও নাটোর অঞ্চলে স্বল্পকালীন বন্যা হতে পারে বলে আগেই আভাস দিয়েছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা। এর মধ্যে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহার রাজ্যে প্রবল বর্ষণের কারণে বন্যা দেখা দেওয়ায় গঙ্গায় ফারাক্কা বাঁধের ১১৯টি গেইটের সবগুলোই সোমবার খুলে দেয় ভারত।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলেছে, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নদীর পানি বেড়ে যে বন্যা পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তার মূল কারণ অতিবর্ষণ; ফারাক্কা বাঁধ নয়। গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে পাবনার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বেড়ে বিপদ সীমার সাত সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন। সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার বিপদসীমা পানি অতিক্রম করে। গত মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ১৪ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার, যা বিপদসীমার চেয়ে ৩ সেন্টিমিটার বেশি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্রমাগত পানি বৃদ্ধির কারণে সদর, ঈশ্বরদী ও সুজানগর উপজেলার পদ্মাপাড়ের অনেক গ্রামের বসত বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ওইসব কয়েক শতাধিক পরিবার। খাবার, পানীয় জল ও গোখাদ্য সংকটে গবাদি পশু ও পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। পাবনার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, আকস্মিক বন্যায় এ উপজেলার দোগাছি, ভাঁড়ারা, চরতারাপুর ও হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ৬৯২ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় এক হাজার পরিবারের মানুষ।

গত মঙ্গলবার ও পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় আরও বেশ কিছু নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে জানান তিনি। দোগাছি ইউনিয়নের চরকোমরপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বন্যায় কৃষকদের ধান, মাসকলাই ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। কৃষকরা কাঁচা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। হু হু করে পানি ঢুকেছে বসতবাড়িতে। রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় দূর দূরান্তের স্বজনদের বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসছেন। কৃষকরা জানান, বন্যায় সমস্ত ফসল নষ্ট হয়েছে, এখন গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাঁচা ধানই কেটে আনছেন তারা। এই ইউনিয়নের চর কোষাখালি গ্রামের কৃষক সোলায়মান জানালেন, বন্যার পানিতে তার আট নয় বিঘা মাসকালাই এবং তিন থেকে চার বিঘা কাঁচা মরিচের ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

এদিকে ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া, পাকশি ও লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চরের গাজর, শিম, করলা, মূলাসহ আগাম শীতের সবজির ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পদ্মার এসব চরের ঊর্বর জমিতে সবজি ভালো উৎপাদন ও সচরাচর বন্যায় প্লাবিত না হওয়ায়, বর্গাচাষিরা এসব জমিতে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ করেন। লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান শরীফ বলেন, তার ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার একর জমির সবজি ও আখক্ষেত পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে। যার অধিকাংশই আগাম শীতের সবজি। বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় এসব ফসলে কৃষকের বিনিয়োগও বেশি থাকে। টাকার অংকে কমপক্ষে কয়েকশ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের মেম্বর দাদাপুর চরের জিয়াউল হক জিয়া জানালেন, তার ভাইয়ের ৫০ বিঘা গাজরের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। প্রতি বিঘাতে গাজরের বীজ বুনতেই তার খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। এই ইউনিয়নের চর কুরুরিয়া গ্রামে জহুরুল ইসলাম বলেন, তার ১০ বিঘা কফি, চার বিঘা বরবটি, আর দুই বিঘা মুলার ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। যখন জহুরুলের সঙ্গে কথা হচ্ছিল, তখন তার স্ত্রীকে পাশে বসে কাঁদছিলেন। আকস্মিক বন্যায় সমস্ত ফসল নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা চরকুড়লিয়া, চরদাদাপুর, শান্তিনগর, মালপাড়া, উদিপাড়াসহ ২০ গ্রামের চাষিরা।

এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের পর পদ্মায় এমন পানি বৃদ্ধি হয়নি। আগাম প্রস্তুতি না থাকায় ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে বেশি। ‘আরও কয়েকদিন পদ্মার পানি প্রতিদিন ১০ সেন্টিমিটার করে বাড়তে পারে’ বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘পর্যাপ্ত’ প্রস্তুতি রয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, তিন উপজেলার বন্যা দুর্গত মানুষদের সহায়তায় তারা সর্বাত্মকভাবে কাজ করছেন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা ভিত্তিক টিম করে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকের ক্ষতির বিষয়টি তদারকি করছে জেলার কৃষিবিভাগ। তাদের সহযোগিতার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতির হিসেব জানতে চাইলে তিনি বলেন, সদর, ঈশ্বরদী ও সুজানগর উপজেলার চরাঞ্চলের প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষ পনিবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির ‘সঠিক পরিসংখ্যান’ এখনিই দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, কেননা পানি বাড়ছে এবং প্রতিনিয়ত ক্ষতির পরিমানও বৃদ্ধি পাচ্ছে।


কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ায় অস্বাভাবিক হারে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে নদীর পানি বিপৎসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে আতঙ্কে জীবন কাটছে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ। বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের ৫০ গ্রামে প্রায় ১৫ হাজার বানভাসি মানুষকে পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে।

এ ছাড়া দৌলতপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি আর শিলাইদহের কোমরকান্দিতে ভাঙনে আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী। এদিকে কুমারখালীর শিলাইদহের কোমরকান্দি গ্রামের ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ফসলহানি, বসতবাড়ি, স্কুলসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাঙনের মুখে। হুমকির মুখে পড়েছে শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী রক্ষা বাঁধ। আর সীমান্তবর্তী দৌলতপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অস্বাভাবিক হারে পানি ঢুকে পড়ায় বানভাসি এলাকায় ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। মাষকলাইসহ প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির অর্থকরী বিভিন্ন ফসল পানিতে তুলিয়ে গেছে। তবে মাত্র দেড় হাজার পরিবারের জন্য শুকনা খাবার ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কুন্ড জানান, ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব আর উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢলে গত দুদিন পদ্মায় অস্বাভাবিক হারে পানি বেড়েই চলেছে। গতকাল বুধবার সকাল ৮টায় কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টের পানির সমতল ছিল ১৪.৩০ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেভাবে পানি বাড়ছে, তা চলমান থাকলে চরম ক্ষতির আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।


চাঁপাইনবাবগঞ্জ: পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জেলা সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে মানুষের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এতে এসব এলাকার নিম্নাঞ্চলের ফসলের মাঠসহ বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ শাহিদুল আলম বলেন, গতকাল বুধবার সকালে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ও মহানন্দার পানি ২২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীতে ১১ সেন্টিমিটার ও মহানন্দা নদীতে ১২ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান এই প্রকৌশলী। এদিকে হঠাৎ পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ভোগ পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান ফৌজদার বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৫৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।


ফরিদপুর: ফরিদপুর ও মাগুরা জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি এবং গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধি ও দুই দিনের অতি বৃষ্টির ফলে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ১০ গ্রামের প্রায় ৩০ পরিবার নদী ভাঙ্গনের মুখে এবং প্রায় ৩শ ৫০ টি পরিবার পানি বন্দী হয়ে অসহায় অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। এতে ওই পরিবারগুলোর বাড়ীঘর সহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পানিবন্দী ও ভাঙ্গন কবলিত গ্রাম গুলো হলো উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের চরকসুন্দি, আড়পাড়া, সরবরাজ, বকসিপুর, গয়েশপুর, চরগয়েশপুর, চরসালামতপুর, দয়ারামপুর, ফুলবাড়ী ও গন্ধখালী। কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে এ গ্রাম গুলো প্লাবিত হওয়ায় ওই এলাকার কৃষকদের ৬৫হেক্টর রোপা আমন ধানের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এ ছাড়াও ঘন বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানিবন্দী মানুষজন অসহায় অবস্থায় রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা মনোয়ার নদী ভাঙ্গন ও বন্যা কবলিত পানিবন্দী এলাকা পরিদর্শন করেছেন।কামারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুর রহমান বিশ্বাস (বাবু) বলেন আমি ইউনিয়ন ঘুরে দেখেছি আমার ইউনিয়নে এই সময় নদীর পানির বৃদ্ধির ফলে ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি গ্রামে বন্যা হয়েছে এবং প্রায় ৩৫০ পরিবার পানি বন্দী এবং নদী ভাঙ্গন কবলে আছে ৩০টি পরিবার। তবে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি পরিমান নির্নয় করা যায়নি। এই সকল গ্রামের গরীব মানুষ কাজকর্ম করতে না পারায় কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন এবং অনাহারে অর্ধহারে জীবন যাপন করছে। বর্তমান এদের শুকনা খাবার, বিশুদ্ধপানি,স্যালাইন সহ নিত্য প্রয়োজনীয় পত্র প্রয়োজন।