ঢাকা   মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে মিটার-রিডার ও ম্যাসেঞ্জার ঐক্য পরিষদের কর্মবিরতি (জামালপুরের খবর)        নকলায় নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে মানববন্ধন (জামালপুরের খবর)        বকশীগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‌্যালি (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে এনএসভিসি প্রকল্পের শিখন বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের মানববন্ধন (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে সা’দ পন্থীদের ইজতেমা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল (জামালপুরের খবর)        শেরপুরে নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত (জামালপুরের খবর)        ঝিনাইগাতীতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন (জামালপুরের খবর)      

পুলিশ এখন গায়েবি তথ্য উৎপাদনের কারখানা: রিজভী

Logo Missing
প্রকাশিত: 11:15:56 pm, 2018-10-03 |  দেখা হয়েছে: 3 বার।

আজ ডেক্স

পুলিশ গত এক মাসে চার হাজারের বেশি ‘গায়েবি’ মামলায় বিএনপির সাড়ে তিন লাখ নেতা-কর্মীকে আসামি করেছে বলে দাবি করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি পুলিশকে বর্ণনা করেছেন ‘গায়েবি তথ্য উৎপাদনের কারখানা’ হিসেবে। আর সমীক্ষার বরাত দিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোটের হারের পূর্বাভাস দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামকে বলেছেন ‘গায়েবি পরিসংখ্যান ব্যুরোর অধিকর্তা’। গতকাল বুধবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী নিজেই পুলিশের গত এক মাসের মামলার ‘পরিসংখ্যান’ হাজির করেন। তিনি দাবি করেন, গত এক মাসে ৪ হাজার ১০৮টি মামলায় ৩ লাখ ৫৮ হাজার ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৮৩ জনকে। এর মধ্যে এজহারভুক্ত জ্ঞাত আসামির সংখ্যা ৮৪ হাজার ৭৮৩ এবং অজ্ঞাত হচ্ছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ২৪২ জন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকারের মত পুলিশরাও এখন গায়েবি তথ্য উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। এই ‘খয়ের খাঁ’ পুলিশ এখন আওয়ামী লীগের জন্য একটা বড় আর্শীবাদ। গত সপ্তাহে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভার পর রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা যে মামলায় রিজভীসহ ৫৫ জনকে আসামি করা হয়েছে, সেটাও তার ভাষায় ‘গায়েবি মামলা’। বিএনপি নেতা আরো বলেন, শাসকগোষ্ঠীর একনিষ্ঠ অনুগত পুলিশ দেশজুড়ে গ্রেফতার আর মামলার জাল বিছিয়ে বিরোধী কণ্ঠস্বর নীরব রাখতে চাইছে। বর্তমানে দেশজুড়ে গোরস্তানের নীরবতা আর কবরের ভেতরের অন্ধকারের শান্তিতে ক্ষমতাসীনরা উৎফুল্ল, উল্লসিত। তিনি বলেন, আওয়ামী অীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, পুলিশের কাছে নাকি তথ্য আছে বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে নাশকতার ছক আঁকছে। সেজন্যই নাকি জ্যেষ্ঠ নেতাদের নামে মামলা করা হয়েছে। ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বলতে চাই, আপনাদের পুলিশ এমনই যে, ওই মামলায় বর্ণিত ভাঙচুর হওয়া গাড়ির নম্বর তারা জানে না। মামলায় বলা হয়েছে, আমরা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলাম বলে আসামি করা হয়েছে। অথচ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিদেশে আছেন, সেদিন জনসভায় ছিলেন না। আর আমি ছিলাম বরাবরের মতই পার্টি অফিসে। তাহলে বুঝুন আওয়ামী লীগের পুলিশ কত পারঙ্গম ও দক্ষ! রিজভী বলেন, হাতিরঝিলের মামলায় পুলিশ বলেছে, মগবাজারে ঘটনা ঘটেছে। অথচ সাংবাদিকরা সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন ওই এলাকায় সেদিন গাড়ি ভাংচুর বা ককটেল বিস্ফোরণের কথা কেউ জানে না। রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তার জরিপ নিয়ে বক্তব্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামেরও সমালোচনা করেন রিজভী। গত মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে এইচ টি ইমাম বলেন, দেশের ‘উন্নয়নের কারণে’ আওয়ামী লীগের ভোট বেড়েছে। ‘সমীক্ষায়’ দেখা গেছে ২০১৮ সালে বিএনপির ভোট ৩০ শতাংশ আর আওয়ামী লীগের ভোট ৪২ শতাংশ হয়েছে। এই ‘মারফতি’ পরিসংখ্যান এইচ টি ইমাম কোথায় পেয়েছেন- সেই প্রশ্ন রেখে রিজভী বলেন, তিনি এখন গায়েবি পরিসংখ্যান ব্যুরোর অধিকর্তা সেজেছেন। এইচ টি ইমামের বক্তব্যে ‘আবারও ভোটারবিহীন’ নির্বাচন করার পরিকল্পনার ‘আভাস’ দেখা যাচ্ছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, তিনি এখন আওয়ামী সরকারের রাসপুটিন হিসেবে কাজ করছেন। সেজন্যই আওয়ামী লীগ এখন গণবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দল। তিনি আরো বলেন, এহেন অলৌকিক পরিসংখ্যান এইচ টি ইমাম সাহেবের মাথা থেকে আসাটা যৌক্তিক এই কারণে যে, খন্দকার মোশতাকের সহযোগী হিসেবে কাজ করার জন্য বিব্রতকর অবস্থা কাটাতে এখন প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করতে মোসাহেবদের ম্যারাথন দৌড়ে এগিয়ে থাকতে চান। এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়েও কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, গতকাল (গত মঙ্গলবার) সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর পরিবারের লোকেরা দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজনরা ব্যথিত হয়েছেন। তাঁকে চিকিৎসাহীন অবস্থায় রাখা হয়েছে। বাঁ হাত-পা, হাতের আঙুল নড়াচড়া করতে কষ্ট হচ্ছে। ‘ফিজিওথেরাপিও একরকম বন্ধই করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফিজিওথেরাপিস্ট ব্যবস্থা করা হয়নি। খালেদা জিয়াকে গভীর স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যে রাখাটাই যেন সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ জন্যই খালেদা জিয়াকে চিকিৎসাবঞ্চিত রাখা হচ্ছে, বলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। নয়া পল্টনে এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, শওকত মাহমুদ, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করীম শাহিন, মুনির হোসেন, শামসুজ্জামান সুরুজ উপস্থিত ছিলেন।