ঢাকা   রবিবার ২৪ মার্চ ২০১৯ | ১০ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  ১৬ হাজার কোটি ডলারের যুদ্ধবিমান কিনছে মিসর (আন্তর্জাতিক)        নিউ জিল্যান্ডের মসজিদে হামলা : উদ্দেশ্য ‘লাইভ সম্প্রচার’ (আন্তর্জাতিক)        ক্যালিফোর্নিয়ায় মাতলামির অভিযোগে আটক পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট (আন্তর্জাতিক)        বোয়িংয়ের নিরাপত্তার বিষয়টিকে ‘সর্বোচ্চ’ গুরুত্ব দেয়া হবে : সিইও (আন্তর্জাতিক)        অস্ট্রেলিয়ায় খুনের অপরাধে ১ ব্যক্তির ১১ বছরের কারাদন্ড (আন্তর্জাতিক)        মেক্সিকোর দূত হিসেবে রক্ষণশীল আইনপ্রণেতার নাম ঘোষণা ট্রাম্পের (আন্তর্জাতিক)        ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৯ (আন্তর্জাতিক)        নেদারল্যান্ডসে হামলাকারী চিহ্নিত, ছবি প্রকাশ (আন্তর্জাতিক)        মোজাম্বিকে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে সহস্স্রাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা (আন্তর্জাতিক)        সালাম দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী (আন্তর্জাতিক)      

আটক মাদক মামলার আসামিরা স্বল্পসময়েই কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে যাচ্ছে

Logo Missing
প্রকাশিত: 09:14:57 pm, 2019-01-03 |  দেখা হয়েছে: 7 বার।

আজ ডেক্সঃ গ্রেফতার হওয়া মাদক মামলার আসামিদের অনেকেই কারাগার থেকে জামিন পেয়ে গেছে। আর জামিন পাওয়ার পর অনেকেই আবারো নিয়োজিত হয়েছে মাদক ব্যবসায়। গত এক বছরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকেই মাদক মামলার ২২ হাজার আসামি জামিনে বের হয়েছে। কারাগারে প্রবেশের পর তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যেই তাদের জামিন হয়ে যায়। আর আদালত কোনো আসামির জামিন মঞ্জুর করলে কারা কর্তৃপক্ষ যথাসময়ে তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করে। গত এক বছরে মাদক মামলার যেসব আসামি কারাগারগুলোতে প্রবেশ করেছে তাদের বেশিরভাগই জামিনে বেরিয়ে গেছে। তবে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মাদক মামলায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসামি কারাগারে প্রবেশ করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে গত এক বছরে মাদকের মামলা হয়েছে প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার। আর ওসব মামলায় দেড় লাখের বেশি মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীকে গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যও। পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর, কোস্টগার্ড এবং কারাকর্তৃপক্ষ মাদক সংক্রান্ত অভিযান চালিয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তাছাড়া গত বছরের মে থেকে শুরু মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সারা দেশে প্রায় ৪শ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। সূত্র জানায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে মাদকের এক লাখ ৬ হাজার ৭৩০টি মামলা হয়েছে। ওসব মামলায় এক লাখ ৪০ হাজার ৩২২ মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বছরের প্রথম ১১ মাসে পুলিশ ৯৩ হাজার ৭৪৭টি, র‌্যাব ৫ হাজার ৩৬৯টি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ৬ হাজার ২৯০ এবং বিজিবি এক হাজার ২৯১টি মামলা করেছে। তাছাড়া এনবিআর ৪টি, কোস্টগার্ড ১৬টি এবং কারা কর্তৃপক্ষ ১৩টি মামলা করেছে। একই সময়ে পুলিশ এক লাখ ২২ হাজার ৪৮২, র‌্যাব ৯ হাজার ৭৩৩, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ৬ হাজার ৬৪৮ এবং বিজিবি এক হাজার ৪১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাছাড়া এনবিআর ৪, কোস্টগার্ড ২৪ এবং কারাকর্তৃপক্ষ ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অন্যান্য ইউনিটগুলোও মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে শামিল হয়। আর সম্মিলিত অভিযানের কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় বিদায়ী বছরে মাদকের মামলা যেমন বেশি ছিল, তেমনি গ্রেফতারও ছিল অনেক বেশি। এখনো দেশজুড়ে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে। সূত্র আরো জানায়, বিগত ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশ থেকে ৩৯০ কেজি ও ২ লাখ ২২ হাজার ৫৫৫ পুরিয়া হোরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। আফিম উদ্ধার করা হয়েছে ৭ দশমিক ২৮ কেজি। র‌্যাব উদ্ধার করেছে ৭ দশমিক ২৫ কেজি আফিম। তাছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর শূন্য দশমিক শূন্য ৩ কেজি আফিম উদ্ধার করেছে। একই সময়ে ৪৭ হাজার ৪৮৫ দশমিক ৮ কেজি ও ৩ হাজার ৮২১ পুরিয়া গাঁজা ও ২৬১টি গাঁজার গাছ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বছরের প্রথম ১১ মাসে ২ হাজার ৪৭৭ অ্যাম্পল প্যাথেডিন, শূন্য দশমিক ৭৫ কেজি কোকেন, ৫৭ হাজার ৯০৮ ক্যান ও ২ হাজার ৩৪৩ বোতল বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে ৮৮ ক্যান, ১০ হাজার ৪০৩ লিটার ও ২৬ হাজার ৭৩১ বেতাল। ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬৫০ বোতল ও ৮২৮ বোতল ফেনসিডিল, ৪ লাখ ৭০ হাজার ৭৪৩ লিটার ও এক হাজার ৫০২ বোতল দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে। তাছাড়া একই সময়ে সারা দেশ থেকে ৩ কোটি ৪৯ লাখ এক হাজার ৪৩৫ পিস ইয়াবা, ৫৮৬ লিটার তাড়ি, ২ হাজার ৩১৯ লিটার স্প্রিট, ২ হাজার ৯০১ কেজি খাত, ৪৮ হাজার ৫২০টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন এবং ৪৪ হাজার ৩৫০টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এদিকে বিদায়ী বছরে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মাদক ব্যবসায়ীর জামিন পাওয়া প্রসঙ্গে চাইলে ডিআইজি (প্রিজন্স) বজলুর রশিদ জানান, সারা দেশে ৬৮টি কারাগার আছে। তবে সবগুলো কারাগার থেকে মোট কতজন মাদক মামলার আসামি এক বছরে জামিন পেয়েছে তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে মাদক মামলার আসামিরা বেশি দিন কারাগারে থাকে না। অন্যদিকে বিগত বছরের মাদকবিরোধী অভিযানের বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি সোহেল রানা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান সব সময়ই জিরো টলারেন্স। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করতে পুলিশের পক্ষ থেকে গত ১৮ মে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়। আর ৪ মে থেকে শুরু হয় র‌্যাবের বিশেষ অভিযান।