মোহাম্মদ আলী
স্টেশনের প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। ফাঁকা পড়ে আছে অপেক্ষাগার। নেই ট্রেনের খবরা-খবর, যাত্রীদের কোলাহল উঠানামা। কারণ স্টেশনটি আজ কয়েক বছর বন্ধ!
এমন চিত্র শতবছরের ঐতিহ্যবাহী, জামালপুর কোর্ট স্টেশনের!
স্টেশনসূত্রে জানা যায়, জনবল সঙ্কটের কারণ কয়েক বছর যাবত স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে। এখানে এখন আর কোনো ট্রেন থামে না! যাত্রী উঠানামা করে না।
এলাকাবাসী জানান, ১৮৯৪ সালে ময়মনসিংহ হতে জামালপুর পর্যন্ত রেললাইন স্থাপিত হয়। এর প্রায় দেড়যুগ পর জামালপুর জংশন থেকে বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত রেললাইনটি বর্ধিত করা হয়। সেই থেকে জামালপুর কোর্ট স্টেশনটি চালু রয়েছে। সকাল থেকে রাত অবধি বেশকয়েকটি লোকাল ট্রেন এখানে থামত। স্থানীয় যাত্রীরা সহজ ও সূলভে যাতায়াত করতেন এই স্টেশন থেকে।
কোর্ট স্টেশনের আশপাশের পাথালিয়া, কম্পুপুর, চন্দ্রা, মাইনপুর ও রশিদপুর গ্রামের মানুষরা এই ট্রেনে যাতায়াত করতেন। এছাড়া এসব এলাকার সরকারি চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ীরা তাদের কর্মস্থল গন্তব্যে আসা যাওয়া আসা করতেন এই স্টেশন থেকে।
তাছাড়া দাপ্তরিক, ব্যবসায়ীক ও মামলা মোকদ্দমা প্রয়োজনে বাহাদুরাবাদ, দেওয়ানগঞ্জ, মোশাররফগঞ্জ, ইসলামপুর মেলান্দহ, দুরমুঠ ইত্যাদি এলাকার যাত্রীরা এই কোর্ট স্টেশনে নেমে সহজেই তাদের প্রয়োজন সারতেন।
বাণিজ্যিক প্রয়োজনেও স্টেশনটি কম ভূমিকা রাখেনি। কোরবানির পশু, কলা, অন্যান্য কৃষিজাত পণ্যও উঠানামা করত এই স্টেশনে।
এমন নানা স্মৃতিবিজড়িত, ১শ ২০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী, স্থানীয় জনজীবন যাত্রায় নানামুখী অবদানকারী, জনবান্ধন স্টেশনটি জনবল সঙ্কটের দোহাই দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে।
ফলে নানা গন্তব্যমুখী শতশত যাত্রী সকলের নিরাপদ গমনাগমন ব্যাহত হচ্ছে। এমতাবস্থায়, স্থানীয় জনগণের দাবি অনতিবিলম্বে জামালপুর কোর্ট স্টেশনটি চালু করা হোক।
