গণভোটেই রাজনৈতিক প্রশ্নের মীমাংসা হয়েছে, সংবিধানে নয় : ব্যারিস্টার ফুয়াদ

রাজনৈতিক প্রশ্নের মীমাংসা গণভোটের মাধ্যমে হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক প্রশ্নের মীমাংসা সংবিধান দিয়ে হবে না। কোনোদিনও হয়নি। জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর ও গণভোটের মধ্য দিয়ে এ প্রশ্নের মীমাংসা হয়ে গেছে। এখন বিষয়টিকে সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা সাংবিধানিক প্রতারণা। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির হলরুমে আয়োজিত ‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, জুলাই সনদের মৌলিক লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করার পাশাপাশি ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ করা। যেন তারা এসব প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহার করতে না পারেন। কিন্তু সংস্কার পরিষদ গঠন না করে জুলাই সনদের ওপর গণভোটের রায় উপেক্ষা করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রে আবারও আওয়ামী লীগের শাসনামলের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় নিয়ে আলোচনা করতে গেলেই সংবিধানের দোহাই দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশোধনী বিল সংসদে পাস করে আবার গণভোটের আয়োজন করা হবে। অথচ রাজনৈতিক প্রশ্নের মীমাংসা সংবিধান দিয়ে হয় না। পৃথিবীতে কোনো বিপ্লব সংবিধান দিয়ে হয়নি। গণঅভ্যুত্থানের আগে সংসদের অনুমতি নিয়ে ছাত্রনেতারা আন্দোলন করেননি। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর ও গণভোটের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক প্রশ্নের মীমাংসা হয়ে গেছে। এখন বাকি শুধু সনদ বাস্তবায়ন। বিষয়টিকে সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা একটি ফাঁদ ও সাংবিধানিক প্রতারণা। সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়ে ফুয়াদ বলেন, সরকার সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু করলে সহযোগিতা করবে ১১ দলীয় জোট। কিন্তু সনদকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং গণভোটের রায়কে অস্বীকার করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারকে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় মেনে নিতে বাধ্য করতে আমরা জনগণের কাছে যাব। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এ দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হবে। তাই গণভোটের গণরায় যেন বর্তমান সরকার মেনে নেয়, এটিই প্রত্যাশা থাকবে।