গাজীপুরে এক পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিজ বাড়িতে এক পরিবারের পাঁচ জনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, গতকাল শনিবার ভোরে উপজেলার রাউৎকোনা (পূর্ব পাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ওই বাড়ির ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩২), শ্যালক রসুল (২২), তিন মেয়ে মিম (১৪), হাবিবা (১০), ফারিয়া (২)। ঘটনার পর থেকে ফোরকান পলাতক রয়েছেন। নিহত শারমিনের ভাগনে সাকিব জানান, শ্যালক রসুলকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফোনে ডেকে নিয়ে আসেন দুলাভাই ফোরকান। পরে রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়লে স্ত্রী, শ্যালক এবং তিন মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করেন। ফোরকান ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন। সাকিব আরও জানান, অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান প্রাইভেটকার চালক। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে রাউতকোনা গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। নানা শাহাদাত মোল্লা সাকিবকে ফোন করে জানান, শারমিন এবং রসুলকে হত্যা করা হয়েছে। পরে সাকিব সকাল ৭টার দিকে ওই বাড়িতে এসে ঘরের মেঝেতে রসুল, শারমিন এবং শারমিনের তিন মেয়ের লাশ ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। একই পরিবারের পাঁচ জনের নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ির গৃহকর্তা ফোরকান মিয়াই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি তার তিন সন্তান, স্ত্রী ও শ্যালককে জবাই করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক রয়েছেন। এদিকে, নিহত শারমিনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শারমিনের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো ছিল না ফোরকানের। ফোরকান ইতোপূর্বে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। নিহত শারমিনের ভাই শাহীন মোল্লা বলেন, প্রায় এক বছর আগে শারমিন অসুস্থ হয়। পরে আমাদের বাড়িতে রেখে তাকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করেন বাবা শাহাদাত মোল্লা। ওই সময় শারমিনের স্বামী ফোরকান বলেছিল, স্ত্রীসহ কাউকে জীবিত রাখবে না। এ কথা শোনার পর আমাদের পরিবারের লোকজন ভেবেছিলেন, তাকে আর স্বামীর ঘরে দেবেন না। কিছুদিন পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামে বাড়ি ভাড়া নিয়ে শারমিন ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন ফোরকান। মাসখানেক আগে ফোরকান বলেছিল, তার প্রাইভেটকার একটি কোম্পানিকে দিয়ে দিয়েছে। মাসে ৪০ হাজার ৫০০ টাকায় ভাড়া হিসেবে। কিন্তু, এরপর থেকে আমরা তার গাড়িও দেখিনি, টাকা আনতেও দেখিনি। তার প্রাইভেটকার বিক্রি করে দিয়েছে নাকি ভাড়া দিয়েছে এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। গতকাল (গত শুক্রবার) সকালে আমার ছোট ভাই রসুল মোল্লাকে ফোন করে ফোরকান বলে, তুমি আমার কাপাসিয়ার ভাড়া বাড়িতে এসো, তোমাকে রাজেন্দ্রপুর এলাকার এন এ জেড পোশাক কারখানায় ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে চাকরি নিয়ে দেবো। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা ডিউটি। আমার ভাই রসুল মোল্লা সন্ধ্যা ৬টার দিকে বোনের কাপাসিয়ার ভাড়া বাসায় যায়। রাত ১২টার দিকে ফোরকান তার ভাই মিশকাতকে ফোন করে জানায়, সবাই মারা গেছে, পরিবারের একজকেও বাঁচিয়ে রাখি নাই। ফোরকানের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করে তিনি বলেন, শুনেছি ফোরকান দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করে রেখেছিল এবং আজই নাকি তার ফ্লাইট হওয়ার কথা ছিল। কী কারণে এবং কেন ফোরকান আমার বোন, ভাগনেদের এবং ছোট ভাই রসুলকে এভাবে হত্যা করলো, আমরা বলতে পারছি না।