টেইলর সুইফটের বিয়ের ‘আবর্জনা’ কিনছেন ভক্তরা!

প্রবাদ আছে-কারো ফেলে দেওয়া আবর্জনা অন্য কারো কাছে মহামূল্যবান সম্পদ। পপ তারকা টেইলর সুইফটের ক্ষেত্রে এই প্রবাদটি যেন অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হলো। সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে মার্কিন ফুটবল তারকা ট্রাভিস কেলসির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন টেইলর সুইফট। আর সেই বিয়ের রেশ ধরে ভেন্যুর চারপাশের রাস্তা থেকে কুড়িয়ে নেওয়া সাধারণ আবর্জনা এখন বিক্রি হচ্ছে চড়া মূল্যে, যা লুফে নিচ্ছেন অন্ধ ভক্তরা। নিউইয়র্কের কুইন্সের বাসিন্দা ও শিল্পী জাস্টিন গিগনাক বিয়ের ভেন্যুর আশেপাশের রাস্তা থেকে বিভিন্ন বর্জ্য ও ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন। এরপর অত্যন্ত চমৎকারভাবে সেই আবর্জনার টুকরোগুলোকে ছোট ছোট স্বচ্ছ অ্যাক্রিলিক কিউবের ভেতর বন্দি করে ‘পকেট গার্বেজ’ নাম দিয়ে বিক্রির ঘোষণা দেন। প্রতিটি ছোট কিউবের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৫ ডলার। অবিশ^াস্য মনে হলেও, বিক্রির ঘোষণা দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সবগুলো কিউব স্টক আউট হয়ে যায়। শিল্পী জাস্টিন তার ওয়েবসাইটে লিখেছেন, অনুষ্ঠানের পর মেঝেতে বা রাস্তায় ময়লা পড়ে থাকাটাই স্বাভাবিক। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বাইরে, টেলর ও ট্রাভিসের এই রূপকথার মতো বিয়ের একদম কাছ থেকেই এই আবর্জনাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে-যা আমন্ত্রণপত্র ছাড়া তাদের বিয়ের ঠিক কতখানি কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব ছিল, তারই এক অনন্য স্মারক। এই প্লাস্টিক কিউবগুলোর ভেতরে কী আছে তা জানলে যে কেউ চমকে উঠবেন। সাধারণ মানুষের ফেলে দেওয়া সিগারেটের ফিল্টার, চুইংগামের প্যাকেট, জুসের স্ট্র, একটি মাত্র এয়ারপড কিংবা ব্যবহৃত ওভুলেশন টেস্ট কিটের মতো জিনিসও স্থান পেয়েছে এই সংকলনে। গিগনাক জানিয়েছেন, তিনি ২৫ ডলার মূল্যের ৫০টি ছোট কিউব তৈরির পাশাপাশি কিছু বড় আকারের কিউবও তৈরি করেছিলেন, যেগুলোর প্রতিটির মূল্য রাখা হয়েছিল ১০০ ডলার। অবশ্য শিল্পী নিজেই স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে এই আবর্জনাগুলোর কোনোটিই সরাসরি টেলর সুইফট, ট্রাভিস কেলসি কিংবা তাদের আমন্ত্রিত অতিথিদের স্পর্শ করা বা তাদের ব্যবহৃত-এমন কোনো প্রমাণ নেই। এগুলো মূলত বিয়ের দিন ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বাইরের নিরাপত্তা বেষ্টনীর চারপাশ থেকে কুড়ানো হয়েছে। টেইলর সুইফটের ভক্তরা, যারা বিশ^জুড়ে ‘সুইফটিজ’ নামে পরিচিত, প্রিয় তারকার সামান্যতম স্মৃতিচিহ্ন পেতে সবসময়ই বিপুল অর্থ খরচ করতে প্রস্তুত। এর আগে সুইফটের রেকর্ড সৃষ্টিকারী ‘ইরাস ট্যুর’-এর ২ বিলিয়ন ডলারের টিকিট বিক্রিই তার প্রমাণ। বিয়ের আবর্জনা কেনার ক্ষেত্রেও সেই একই উন্মাদনা দেখা গেছে।