নতুন মোড় নিলো বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে গ্রুপ পর্বে লাল কার্ড দেখার পরও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার অনুমতি দেওয়ার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। দ্য টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বালোগুনের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির পুরো সদস্যরা নেননি। বরং একাই সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আল-কামালি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা শৃঙ্খলা কমিটির বাকি ১৭ জন সদস্যের কেউই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সরাসরি লাল কার্ড দেখলে পরের ম্যাচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ থাকার নিয়ম দীর্ঘদিন ধরেই কার্যকর। কিন্তু বালোগুনের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম প্রয়োগ না করে তাকে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও সেটি এক বছরের পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়। ফলে তিনি শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ পান। এই সিদ্ধান্তের পর ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, উয়েফা এই সিদ্ধান্তকে ‘নজিরবিহীন, দুর্বোধ্য এবং কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়’ বলে মন্তব্য করেছিল। অন্যদিকে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সে সময় বলেছিলেন, বিষয়টি একটি ‘স্বাধীন বিচারিক সংস্থা’ পরিচালনা করছে। কিন্তু নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাস্তবে শৃঙ্খলা কমিটির অন্য কোনো সদস্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে অংশ নেননি। এতে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিতর্ক আরও বাড়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, বালোগুনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন। যদিও ফিফা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। দ্য টাইমস-এর দাবি, ফিফা এখনো পর্যন্ত ব্যাখ্যা করেনি কেন বালোগুনের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এমনকি এই সিদ্ধান্তের লিখিত ব্যাখ্যাও প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনটি আরও বলছে, বিশ্বকাপে লাল কার্ডের পর স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞার নিয়ম চালু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা পুরো ঘটনাকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।