উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নতুন সেতু দিয়ে চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদংয়ে পৌঁছেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ গতকাল শনিবার এক সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ইয়ালু নদীর ওপর নির্মিত নতুন চার লেনের সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর কিমের এ যাত্রার খবর এলো। ২০১৪ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও উত্তর কোরিয়ার পাশে সংযোগ সড়ক ও শুল্কসুবিধা না থাকায় এটি চালু করতে দেরি হয়। চীন উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশটি উত্তর কোরিয়াকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তাও দিয়ে থাকে। নতুন সেতুটি দুই দেশের বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর থেকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে মস্কোর সম্পর্কও আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছে। রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তা দিতে উত্তর কোরিয়া সেনা পাঠিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর বিনিময়ে দেশটি অর্থনৈতিক সুবিধা ও সামরিক প্রযুক্তি পাচ্ছে বলে ধারণা করা হয়। এদিকে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে প্রথম সড়ক সেতু চালুর এক মাসের কিছু বেশি সময় পর চীনের সঙ্গে নতুন সেতুটি চালু হলো। পিয়ংইয়ং এ ঘটনাকে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে। কিমের চীনে পৌঁছানোর খবরটি নিশ্চিত করতে বার্তা সংস্থা এএফপি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দেশটির সরকার বারবার জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার স্থায়ী এবং তা থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিতে চান। সেপ্টেম্বরে তিনি ইঙ্গিত দেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার পরিবর্তে প্রথমে তা স্থগিত করার চেষ্টা করা। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকে পরোক্ষভাবে পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেওয়া হতে পারে। এতে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ না করেই নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অবস্থানকে নীরবে মেনে নেওয়ার পথে এগোচ্ছে। গত জুনে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন পিয়ংইয়ংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংকে স্বাগত জানান। এর আগে শি বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে পরপর দুটি শীর্ষ বৈঠক করেন। কিম ও শির বৈঠকের পর প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়টিকে চীনের নীরব সম্মতির সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে এ থেকে চীন উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এদিকে কিম জং উনের চীন সফরের সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার বেইজিংয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। এতে শি চিনপিংসহ দেশটির শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।
নতুন সেতু দিয়ে চীনে পৌঁছেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন
