ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ^কাপে ওয়েলসকে রুখে দিল বাংলাদেশ

ওয়েলসের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ^কাপ ও ফেস্টিভ্যালের যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। গতকাল শনিবার আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর হোভসান কম্পিটিশন কমপ্লেক্সে শক্তিশালী ওয়েলসের সঙ্গে লড়াই করে এক পয়েন্ট পেয়েছে আকবর হোসেন রিদনের দল। শারীরিক সক্ষমতায় পিছিয়ে থাকলেও রক্ষণ সামলে গোলের দেখা পায়নি কোনো দল।
মাস দুয়েক আগে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল দলের কারিগরি দিকনির্দেশনায় ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যানকে যুক্ত করার আলোচনা দেশের ফুটবল অঙ্গনে বেশ সাড়া ফেলেছিল। এবার সেই ওয়েলসেরই বয়সভিত্তিক দলের বিপক্ষে মাঠে নেমে গোলশূন্য ড্র করেছে বাংলাদেশের তরুণেরা।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের গোলরক্ষক শ্রীনাথ সরকার জানান, শারীরিক শক্তিতে ওয়েলস এগিয়ে থাকলেও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো খেলেছে বাংলাদেশ। ম্যাচে গোল না খাওয়াই ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
শ্রীনাথ বলেন, “আজকে আমাদের প্রথম ম্যাচ ওয়েলসের বিপক্ষে খেলেছি। তারা আমাদের থেকে ফিজিক্যালি অনেক ভালো। এই হিসাবে আমরা অনেক ভালো খেলছি। এই ম্যাচটি আমি নিজের থেকে ক্লিন শিট রাখার চেষ্টা করেছি, পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও ক্লিন শিট রাখব। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলছি। এই হিসাবে আমাদের দল ভালো খেলছে, আপনারা দোয়া করবেন।”
তবে গোলশূন্য ড্রয়ে পয়েন্ট পেলেও দলের খেলায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন কোচ আকবর হোসেন রিদন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মাধ্যমে পাঠানো ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, খেলোয়াড়েরা নিজেদের শতভাগ দিতে পারেননি। প্রতিপক্ষ শারীরিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কৌশলগত দিক থেকেও পরিণত ছিল।
কোচের ভাষ্য, “দলের পারফরম্যান্সে আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছি না। ছেলেরা নিজেদের শতভাগ দিয়ে খেলতে পারেনি। প্রতিপক্ষ শারীরিকভাবে বেশ শক্ত এবং ট্যাকটিক্যালিও অনেক পরিপক্ব ছিল। আমরা মূলত বিল্ড-আপ প্লেতে বেশ কিছু ভুল করেছি। এমনকি ম্যাচের সবচেয়ে সহজ গোলের সুযোগটি নষ্ট করেছি আমরাই।”
ফিফার উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে ১৯১টি দেশের দল। আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ের এই বিশেষ ফুটবল উৎসব। সাধারণ আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১১ জন করে খেলোয়াড় মাঠে নামলেও এখানে প্রতি দলে খেলছেন আটজন। মাঠের দৈর্ঘ্য ৬৮ মিটার ও প্রস্থ ৪৮ মিটার। ম্যাচের দুই অর্ধ ২০ মিনিট করে, অর্থাৎ মোট খেলার সময় ৪০ মিনিট।
টুর্নামেন্টের মূল ট্রফি বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর। বয়সভিত্তিক ফুটবলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই আয়োজন।
বাংলাদেশ রয়েছে ‘জি’ গ্রুপে। তাদের অন্য প্রতিপক্ষ পর্তুগাল, ইন্দোনেশিয়া, ফিজি ও বুরুন্ডি। গ্রুপের প্রথম দিনের আরেক ম্যাচে বুরুন্ডিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল। ফলে এক ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে পর্তুগাল। ওয়েলসের সঙ্গে ড্র করে বাংলাদেশ ও ওয়েলস পেয়েছে এক পয়েন্ট করে। গোল ব্যবধান ও অন্যান্য প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে, ওয়েলস তৃতীয় স্থানে।
বাংলাদেশের সামনে এবার কঠিন সূচি। আজ রোববার দিনের প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের মুখোমুখি হবে দলটি। এরপর একই দিনে দ্বিতীয় ম্যাচে খেলবে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। আগামীকাল সোমবার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ বুরুন্ডি ও ফিজি। তিন দিনে গ্রুপ পর্বের পাঁচটি ম্যাচ খেলতে হবে তরুণ ফুটবলারদের।
পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মাঠে অনুশীলনের পর্যাপ্ত সময় না থাকায় ভিডিও বিশ্লেষণের ওপর জোর দিচ্ছেন কোচ রিদন। ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচে করা ভুলগুলো চিহ্নিত করে খেলোয়াড়দের শুধরে দেওয়ার পরিকল্পনা তাঁর।
রিদন বলেন, “আগামীকাল সকালে পর্তুগালের বিপক্ষে নামার পর রাতে আমাদের আরও একটি ম্যাচ আছে। মাঝখানের এই অল্প সময়ে মাঠে অনুশীলনের সুযোগ নেই। তাই আজকের ম্যাচের ভুলত্রুটিগুলো ভিডিও সেশনের মাধ্যমে বের করে খেলোয়াড়দের শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করব।”
টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাকুর হোভসান কম্পিটিশন কমপ্লেক্স ও বাকু ক্রিস্টাল হলে। ওয়েলসের বিপক্ষে রক্ষণ সামলে পাওয়া এক পয়েন্ট বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক শুরু হলেও পর্তুগাল ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে পরের দুই ম্যাচে নিজেদের আরও উন্নত করার চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে তরুণদের সামনে।