বাপ-ভাইকে হারিয়েছি, এলাকার জনগণই এখন আমার বাবা-ভাই -মোঃ সুভাষ সরকার

সেলিম মাহমুদ
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলাধীন ৫ নং পিংনা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফজল মেম্বারের সুযোগ্য পুত্র, পিংনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, রাজপথের লড়াকু সৈনিক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন, বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, শহীদ জিয়ার আদর্শের বিপ্লবী ও সংগ্রামী জননেতা মোঃ সুভাষ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে পিংনা ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
খবর নিয়ে জানা যায়, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে তিনি ও তার পরিবার নিদারুণ কষ্ট-যন্ত্রণা সহ্য করেছেন। মামলা, হামলা, ঘরছাড়া হয়ে তারা রাস্তায় রাস্তায়, কখনো কখনো ভুট্টা ক্ষেতে রাত্রি যাপন করেছেন। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তার বাবা ফজল মেম্বারকে এবং তার বড় ভাই সবুজকে নির্মমভাবে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেÑযার বিচার আজও সে পায়নি। যন্ত্রণার পাহাড় নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করেছেন তিনি।
তার বাবা এবং তাদের পরিবার জিয়ার আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য পিংনা ইউনিয়নে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা হয়রানি মামলায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তার পরিবারের ত্যাগ, আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাস পিংনা ইউনিয়নবাসী অবগত রয়েছেন।
৫ই আগস্টের পরে সুভাষকে পিংনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিলে অল্প কিছুদিনের মধ্যে তিনি তার সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ করেছেন।
শত অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন ও জুলুম সহ্য করেও বাবার আদর্শকে তিনি হৃদয়ে ধারণ করে আজও স্বপ্নে বিভোর আছেন। তিনি চান তার বাবা যেমন মানুষের সেবা করে জীবন দিয়েছেন, তেমনিভাবে জনগণের খেদমত করে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে।
তার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ছাত্রনেতা সানি বলেন, “সুভাষ ভাই সত্যিকার অর্থে একজন খোলা মনের মানুষ। অন্তরটা অত্যন্ত সরল, সকলের সাথে তিনি হাসিমুখে আন্তরিকভাবে কথা বলেন। অন্যায়কে তিনি কখনো প্রশ্রয় দেন না, সদা সত্য কথা বলেন, ন্যায়ের পথে চলেন। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দৃঢ় প্রত্যয় এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অন্যায়ভাবে যেন গরিবের হক কেউ খেতে না পারে, সেজন্য তিনি প্রতিবাদ করেন।
আমার বিশ্বাস, তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে একদিকে যেমন মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সেবনকারী, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ভয়ে থাকবে; অন্যদিকে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে।”
পিংনা ইউনিয়ন যুবনেতা পাশা বলেন, “সুভাষ ভাইকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করলে এলাকার জনগণ পাবে আস্থা ও বিশ্বাসের এক নতুন ঠিকানা। ইউনিয়ন পরিষদের সকল বরাদ্দ ন্যায্যতার ভিত্তিতে সুষম বণ্টন হবে, ইনশাআল্লাহ। বিএনপির দলের জন্য তার বাবা ও ভাই প্রাণ দিয়ে গেছেন, আমাদের উচিত সুভাষ ভাইকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে জনগণের সেবা করার সুযোগ দেওয়া।”
সুভাষ বলেন, “আমার আর হারানোর কিছু নাই, পাওয়ারও কোন আশা নেই। বাবা-ভাইকে হারিয়েছি, এলাকার জনগণই এখন আমার বাবা-ভাই। জনগণ যদি আমাকে চায়, তবে তাদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবো আজীবন।”
“এছাড়াও গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী করে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের সকল সুযোগ-সুবিধা হত দরিদ্রদের মাঝে সুষ্ঠু বণ্টন করে দুস্থ ও দারিদ্রমুক্ত হাসি-খুশি, সুখী-সমৃদ্ধ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সকল প্রতিষ্ঠান হবে হয়রানিমুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য, গ্রহণযোগ্য, নির্ভরযোগ্য ও জনবান্ধব।” -তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একই সাথে তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি এলাকার নেতৃস্থানীয় ও সুশীল ব্যক্তিদের সুপরামর্শ, সুচিন্তিত মতামত ও সার্বিক সহযোগিতা এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনা করেন।