ভয়াবহ ভূমিকম্পের এক মাস পর শুক্রবার ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো এবং রাজধানী কারাকাসে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে। এএফপির সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল থেকে এ তথ্য জানিয়েছেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের তানাগুয়ারেনা এলাকায় ধসে পড়া একটি ভবনের সামনে উদ্ধারকর্মী এবং নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে থাকা পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান সাময়িক বন্ধ রেখে এই নীরবতা পালন করেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ২২০৪) নীরবতা পালনের আগে এক নারী অস্থায়ী স্মৃতিবেদির সামনে প্রার্থনা করেন। খেলনা দিয়ে সাজানো ওই স্মৃতিবেদির সামনে তিনি হাতে জপমালা নিয়ে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। গত ২৪ জুন আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে সরকারি হিসাবে ৫ হাজার ৫৪৬ জন নিহত এবং প্রায় ১৭ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এই দুর্যোগে শত শত ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং ২৩ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশজুড়ে নাগরিকদের এই নীরবতায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। লা গুয়াইরা ছাড়াও রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন চত্বরেও একই সময়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এক মাস পেরিয়ে গেলেও স্বজনদের খুঁজে পেতে প্রতিদিন ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন অনেক পরিবার। ৩২ বছর বয়সী আনিয়েল আন্দ্রাদে এখনও তাঁর নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন। তিনি বলেন, ‘যারা আর আমাদের মাঝে নেই, তাদের জন্য সব পরিবার যেন প্রার্থনা করে—আমি সেটাই চাই। আর যাদের স্বজন এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছেন, আমরা প্রার্থনা করছি যেন তাদের অন্তত খুঁজে পাওয়া যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভূমিকম্প মোকাবিলা সম্পর্কে আমাদের মানুষের তেমন কোনো ধারণা ছিল না। তাই এই দুর্যোগ আমাদের সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় আঘাত করেছে।’ রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সামরিক অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, এই ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলাবাসীকে ‘প্রকৃতির শিকারে’ পরিণত করেছে। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করে বলেন, ‘তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে, জীবন বাঁচাতে কাজ করেছে। কাদা-মাটিতে নেমে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করেছে এবং এখনো দুর্গত এলাকায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’ তবে, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে অনেক ভেনেজুয়েলাবাসী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এদিকে, গত শুক্রবার রাজধানী কারাকাসে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সমর্থকরা ভূমিকম্প-পরবর্তী মার্কিন সহায়তার সমালোচনা করে বিক্ষোভ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রাণঘাতী সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মাদুরোকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। প্রায় ১০০ জন মাদুরো-সমর্থক রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পতাকায় আগুন দেন। একই সঙ্গে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবি মাটিতে ফেলে পদদলিত করেন। ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির একজন আলোকচিত্রী জানান, বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন—‘গ্রিংগোরা, নিজেদের দেশে ফিরে যাও’ এবং ‘এটি কোনো সহায়তা নয়, এটি দখলদারিত্ব।’
ভূমিকম্পের এক মাস পর নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করল ভেনেজুয়েলা
