মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে ইশরাক, বৈধতা ও ব্যবহার নিয়ে তদন্ত

মাদকবিরোধী অভিযানে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে অংশ নেওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। অস্ত্র প্রদর্শনের পক্ষে আত্মরক্ষার যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেছেন, মাদক কারবারিদের হামলার আশঙ্কায় অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচু করেছিলেন, কাউকে ভয় দেখাননি বা গুলি করেননি। তবে অস্ত্রের ব্যবহার আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম। গত শনিবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রীকে গাড়ি থেকে নেমে অস্ত্র উঁচু করতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুই ব্যক্তির হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর পাশ থেকে একজনকে ‘একেবারে গুলি করে দেব’ বলতে শোনা যায়। গতকাল রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে দেওয়া হয়েছে। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ব্যাখ্যায় ইশরাক হোসেন বলেছেন, গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি এসব অভিযোগ পাচ্ছেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পরও কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গেন্ডারিয়ার ওই এলাকা মাদক কারবারিদের অন্যতম প্রধান যাতায়াত ও সরবরাহকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গত জুনে মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভাও করেন। ইশরাক জানান, মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবলসংকট দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নাধীন। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ বার বৈঠক করেছেন। প্রতিবারই পুলিশ বিভিন্ন কারণ দেখিয়েছে। কখনো জনবলসংকট, কখনো গাড়ি না থাকার কথা বলা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য, এর আগে ওই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মাদক কারবারিরা দূর থেকে গুলি চালায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, অভিযানে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাঁর নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে আকস্মিক গুলি চালাতে পারে, এমন আশঙ্কার কথাও তাঁকে জানানো হয়। বিবৃতিতে তিনি বলেন, কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। তখন হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচু করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি। গত শনিবার রাতে গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যেও ইশরাক বলেন, তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ। তিনি বলেন, ‘আমি তো আর গুলি করি নাই, ওটা নিয়ে কাউকে ভয়ও দেখাই নাই। হ্যাঁ, অভিযান আমরা করেছি, আমরা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলছি। যাতে করে দ্বিতীয়বার আর মাদকের আস্তানা গড়ে তুলতে না পারে।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে ইশরাক আগ্নেয়াস্ত্র উঁচু করে কয়েকজনকে ধরতে নির্দেশ দিচ্ছেন। এ সময় তাঁকে ‘এই ধর ধর ধর’ বলতে শোনা যায়। তাঁর পাশ থেকে আরেকজনকে ‘একেবারে গুলি করে দেব’ বলতেও শোনা যায়। ভিডিওর একটি অংশে রেললাইনের পাশে থাকা এক যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ স্যার।’ জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ আসবে তারপর কথা হবে।’ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের কয়েকজনকে ওই যুবকসহ অন্যদের ধরতে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। একপর্যায়ে একজন নিরাপত্তারক্ষী এক তরুণকে লাথি মারেন। ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল শিকদার দাবি করেন, তিনি প্রতিমন্ত্রীর সরকারি দেহরক্ষী। ভিডিওতে ইশরাকের হাতে থাকা পিস্তলটির কিছু অংশ ঝাপসা করা থাকলেও অন্য অংশে অস্ত্রটি স্পষ্ট দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুই ব্যক্তির হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। প্রতিমন্ত্রীর দুই ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুও ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের কাছেও অস্ত্র ছিল। ইশরাকের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওটির শিরোনাম ছিল ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’। ভিডিওটি প্রকাশের পর অস্ত্র হাতে একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অভিযানে অংশ নেওয়া, তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের অস্ত্র বহন এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ইশরাকের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলে থাকা পাভেল শিকদারের বক্তব্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ইশরাকের বিবৃতি অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয়। অন্যদিকে, পাভেল শিকদার বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের বারবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী সেখানে গিয়েছিলেন। পুলিশকেও আগে থেকে জানানো হয়েছিল, তবে পুলিশ পৌঁছাতে দেরি করে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত শনিবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। দুই বক্তব্যের এই পার্থক্য থেকে পুলিশের উপস্থিতির সুনির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবে প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর সহযোগীদের অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনা এবং এর আইনি দিক নিয়ে তদন্তের বিষয়টি সামনে এসেছে। ইশরাক হোসেনের বিবৃতি অনুযায়ী, পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। এসব স্থান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদক, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে জব্দ করা আলামতসহ তাঁদের গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। ইশরাকের দাবি, অভিযানটি ছিল পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে নেওয়া নাগরিক অংশগ্রহণমূলক সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ। তাঁর মতে, মাদকের আস্তানা উচ্ছেদের পাশাপাশি সেখানে যাতে পুনরায় মাদক কারবার শুরু হতে না পারে, সে জন্য সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ছিল কর্মসূচির উদ্দেশ্য। তবে অভিযানে জব্দ করা আলামত, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে দেওয়া তথ্যগুলো প্রতিমন্ত্রীর বিবৃতির ভিত্তিতে পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তদন্ত বা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইশরাক হোসেনের অস্ত্রের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর দাবি, আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দেওয়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার জন্যই তিনি সেটি বহন করেছিলেন। তবে অস্ত্রের লাইসেন্স থাকা এবং জনসমক্ষে সেটি কীভাবে প্রদর্শন করা যাবে, তা এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও ব্যবহারের শর্ত দেওয়া হয়েছে। ওই অনুচ্ছেদের ‘ক’ উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বৈধ অস্ত্র আত্মরক্ষার জন্য বহন বা ব্যবহার করা যাবে। তবে অন্যের মধ্যে ভীতি বা বিরক্তি সৃষ্টি করে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। অর্থাৎ, অস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেই যেকোনো পরিস্থিতিতে বা যেকোনো ভঙ্গিতে তা প্রদর্শনের অনুমতি পাওয়া যায় না। আত্মরক্ষার প্রয়োজন ছিল কি না, অস্ত্র প্রদর্শনের পরিস্থিতি কী ছিল এবং তা নীতিমালার শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, এসব বিষয় তদন্তে বিবেচ্য হতে পারে। গত শনিবার রাতে প্রতিমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নির্বাচনের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কথা উল্লেখ করেননি কেন। জবাবে ইশরাক বলেন, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি করার ঘটনার পর তিনি অস্ত্রটি নিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, অস্ত্র নেওয়ার সময় হলফনামায় তা উল্লেখ করার সুযোগ ছিল না। তবে অস্ত্রের লাইসেন্সের বৈধতা, হলফনামায় তথ্য উল্লেখের বিষয় এবং জনসমক্ষে অস্ত্র প্রদর্শনের বৈধতা পৃথক আইনি প্রশ্ন। তদন্তে কোন বিষয়গুলো যাচাই করা হবে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত কী হয়, তা এখন দেখার বিষয়। অভিযানের ভিডিও ও সংবাদ প্রকাশের ধরন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম প্রচারের মাধ্যমে পুরো প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করা হয়েছে। এতে তাঁর ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিবৃতিতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের নাম উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, তাদের প্রতিবেদনে অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের দাবি এবং ছয়জনকে আটকের বিষয় যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। তাঁর ভাষ্য, শুধু অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার দৃশ্যকে সামনে আনা হয়েছে, যা তাঁর মতে স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোকে যেকোনো খবর প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরার আহ্বান জানান। একজন প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযানে সরাসরি অংশ নেওয়া, তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকা এবং সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় জননিরাপত্তা ও আইনি দায়বদ্ধতার প্রশ্ন উঠেছে। ইশরাক হোসেন একে আত্মরক্ষার প্রয়োজন এবং সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে, ডিএমপি বলছে, ঘটনাটিতে আইন লঙ্ঘনের কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারের তদন্তে অস্ত্র প্রদর্শনের পরিস্থিতি, আত্মরক্ষার দাবির ভিত্তি, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালা এবং ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কতটা আইনসম্মত ছিল, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তদন্তের ফল প্রকাশ এবং কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে এ ঘটনায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।