ভারতের মুম্বাইয়ে টানা মৌসুমি বৃষ্টির মধ্যে একটি ভবন ধসে পাঁচ শিশুসহ ছয়জনের প্রাণহানি হয়েছে। প্রবল বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্লাবিত হয়েছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। মুম্বাইয়ের মেয়র ঋতু তাওদে এক বিবৃতিতে বলেন, গত রোববার মহানগরীর পূর্বাঞ্চলে একটি জরাজীর্ণ আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু বাসিন্দা আটকা পড়েন। ভারী বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকা অচল হয়ে পড়েছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বাইয়ে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারতে কয়েক কোটি মানুষ কৃষি ও শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর মৌসুমি বায়ু সেই বৃষ্টি নিয়ে আসে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার ধরণে পরিবর্তন ঘটছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এই দেশ আরও উষ্ণ হয়ে উঠছে। চলতি বছরের এল নিনো পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ গতকাল সোমবার মুম্বাইয়ের জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ভারী বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকবে। সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মুম্বাই কর্তৃপক্ষ গতকাল সোমবার সব স্কুল ও কলেজে ছুটি ঘোষণা করেছে। মেয়র ঋতু তাওদে বাসিন্দাদের সম্ভব হলে ঘরের ভেতরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রবল বাতাসে গাছ ও গাছের ডাল ভেঙে পড়তে পারে। মুম্বাইয়ে এই ভারী বর্ষণের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছিল। গত মাসে কর্তৃপক্ষ পানির ব্যবহার সীমিত করে। পাশাপাশি সুইমিং পুল ও নির্মাণকাজে পানির সরবরাহও কমিয়ে দেওয়া হয়। দুই কোটির বেশি মানুষের শহর মুম্বাইয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা ডেটা সেন্টার অবকাঠামোর কারণে পানিসম্পদের ওপর বাড়তি চাপ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ডেটা সেন্টার শীতল রাখতে বিপুল পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়, যা সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সূত্র: এএফপি
মুম্বাইয়ে ভারী বৃষ্টিতে ভবন ধসে ৬ জনের প্রাণহানি
