মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে স্পেনকে সাময়িক বরখাস্ত বা বের করে দেওয়ার করার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে সামরিক জোট ন্যাটো। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের চুক্তিতে কোনো সদস্য দেশকে স্থগিত বা বহিষ্কারের বিধানই নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেসব মিত্র দেশ ইরানবিরোধী অভিযানে যথেষ্ট সমর্থন দেয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ন্যাটোর এক কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, “এই জোটের চুক্তিতে সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিলের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। ” এই ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, ‘আমরা ই-মেইলের ভিত্তিতে কাজ করি না, বরং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করি।’ একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকেই মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ইরান ইস্যুতে স্পেনের অবস্থান নিয়েই মূলত এই বিতর্ক। দেশটি তার ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন রোটা নৌঘাঁটি ও মোরন বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলার অনুমতি দেয়নি। এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারও বলেছেন, ইরান যুদ্ধ বা দেশটির বন্দর অবরোধে আরও গভীরভাবে জড়ানো যুক্তরাজ্যের স্বার্থে নয়। যদিও ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে এবং রয়্যাল এয়ার ফোর্স ইরানি ড্রোন প্রতিহত করতে অংশ নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করে আসছেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা দিচ্ছে, কিন্তু অন্যরা সমানভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। সম্প্রতি তিনি ন্যাটোকে ‘একতরফা ব্যবস্থা’ বলেও উল্লেখ করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, পেন্টাগনের ওই ই-মেইলে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন ফকল্যান্ড আইল্যান্ড নিয়ে মার্কিন অবস্থান পুনর্বিবেচনার প্রস্তাবও ছিল। দ্বীপপুঞ্জটি নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে, যা ১৯৮২ সালের যুদ্ধে রূপ নেয়। এছাড়া, ন্যাটোর ভেতরে ‘অসহযোগী’ দেশগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথাও ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কোনো প্রস্তাব নেই। পেন্টাগনের মুখপাত্র কিংসলি উইলসন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের জন্য অনেক কিছু করেছে, কিন্তু তারা আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি।’ তিনি জানান, মিত্রদের আরও সক্রিয় করতে প্রেসিডেন্টকে প্রয়োজনীয় বিকল্প দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ন্যাটোর ভেতরে মতবিরোধ ও চাপা উত্তেজনা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যদিও জোটের কাঠামোগত নিয়মে এখনো সদস্যপদ নিয়ে কোনো কঠোর পদক্ষেপের সুযোগ নেই। মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় চড়া তেলের বাজার, সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা এলেও পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়নি। পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলেছে। গতকাল শুক্রবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬.৫০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেখানে চলমান অচলাবস্থা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। ফলে এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ জ্বালানি আমদানিতে চাপের মুখে পড়ছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান কার্যকর শান্তি প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত চাপ অব্যাহত থাকবে। সরবরাহ সংকট দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এতে শুধু জ্বালানি খাতই নয়, বৈশ্বিক পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ও বাড়তে পারে, যা মুদ্রাস্ফীতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
যুক্তরাষ্ট্র স্পেনকে বের করতে পারবে কিনা জানাল ন্যাটো
