রাঙামাটিতে ৩০ গ্রাম প্লাবিত, ফিরেছেন সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকরা

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে প্লাবিত হয়ে ৩০ গ্রামের হাজারো মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। সৃষ্টি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ। প্লাবিত হয়েছে জেলার বিলাইছড়ির ফারুয়া, বরকল ও জুরাছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুপ্তশ্রী সাহা বলেন, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড ও ৮টি ইউনিয়নের প্রায় সব স্থান উজানের পানিতে ডুবে আছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যায় দুর্গতদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের জন্য রান্না খাবার ও শুকনো খাবার হিসেবে চাল, ডাল, চিনি, চিড়া বিতরণ করা হচ্ছে। এদিকে গৃহপালিত পশু নিয়ে অনেকেই উঠেছেন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে। তবে এখনও অনেক স্থানে ত্রাণ সহায়তা না পৌঁছোনো অভিযোগ অনেকের। টানা বর্ষণের কারনে যোগাযোগের একমাত্র সড়কে পানি ওঠায় সাজেকে আটকা পড়া পর্যটকরা ফিরতে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ফিরতে শুরু করেছেন। রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকালে দেড়শো পর্যটক সাজেক ছেড়েছিল। গতকাল শুক্রবার সকালে বাকি পর্যটকরা সেনা সহায়তায় সাজেক ছেড়েছেন ৩১১ পর্যটক। এদিকে রাঙামাটির শুকুরছড়ি এলাকা মাটি সরে ৩৩ কেভি লাইনের দুটি পিলার হেলে যাওয়ায় রাত ৮টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন ছিল পুরো শহর। রাঙামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সূত্র থেকে জানা যায়, জেলায় বিভিন্ন স্থানে ১০৪টি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এখন পর্যন্ত জেলার সাড়ে চার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আবস্থান করছেন। আরও ১২৯ পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।