‘শিকার’ সিনেমায় অপুর সাথে দেখা যাবে কলকাতার তিন তারকাকে

সীমান্তবর্তী এলাকার অপরাধ ও নানা অনিয়মকে ঘিরে নির্মিত হচ্ছে থ্রিলার সিনেমা ‘শিকার’। কামরুজ্জামান রোমান পরিচালিত সিনেমাটিতে অভিনয় করছেন অপু বিশ^াস। তার সঙ্গে আরও আছেন নবাগত মুরতজা পলাশ। এবার তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন কলকাতার তিন জনপ্রিয় অভিনেতা। তারা হলেন রজতাভ দত্ত, খরাজ মুখোপাধ্যায় ও শ্যাম ভট্টাচার্য। সম্প্রতি নেপালে শুরু হয়েছে ‘শিকার’-এর শুটিং। নির্মাতা কামরুজ্জামান রোমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীদের পাশাপাশি সিনেমাটিতে নেপালের অভিনয়শিল্পীদেরও দেখা যাবে। রজতাভ দত্ত, খরাজ মুখোপাধ্যায় ও শ্যাম ভট্টাচার্য তিনজনেরই বাংলাদেশের সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মধ্যে শ্যাম ভট্টাচার্য সাম্প্রতিক সময়ে ‘বরবাদ’ ও ‘রাক্ষস’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। অন্যদিকে দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের বড় পর্দার সিনেমায় ফিরছেন রজতাভ দত্ত ও খরাজ মুখোপাধ্যায়। নির্মাতা কামরুজ্জামান রোমান বলেন, ‘চরিত্রের প্রয়োজনেই রজতাভ দত্ত, খরাজ মুখোপাধ্যায় ও শ্যাম ভট্টাচার্যকে নেওয়া হয়েছে। সবাই অনেক এফোর্ট দিচ্ছেন। আশা করছি, সবাই মিলে দর্শকদের দারুণ একটি সিনেমা উপহার দিতে পারব।’ ‘শিকার’-এ রজতাভ দত্ত অভিনয় করছেন মনীষ মালহোত্রা চরিত্রে। চরিত্রটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মনীষ মালহোত্রার পলিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে। সে অনেক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত এবং সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কাজ করে। সব মিলিয়ে চরিত্রটি বেশ শক্তিশালী। আশা করছি দর্শকের ভালো লাগবে।’ সিনেমার গল্প প্রসঙ্গে শ্যাম ভট্টাচার্য বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার অপরাধকে কেন্দ্র করেই ‘শিকার’-এর গল্প। এতে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের প্রেক্ষাপটই তুলে ধরা হচ্ছে। তার ভাষায়, গল্প সিম্পল হলেও সেটি কীভাবে ইউনিক হয়ে উঠতে পারে, ‘শিকার’ ছবিতে সেটিই দেখা যাবে। সিনেমাটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত অপু বিশ^াসও। তিনি বলেন, ‘যখন নির্মাতা গল্প নিয়ে আসেন, তখনই আমি রাজি হয়ে যাই। কারণ, সিনেমাটিতে আমার কাজের জায়গা আছে, অভিনয়ের জায়গা আছে। এই সিনেমার মাধ্যমে আরও একজন নতুন নায়ক মুরতজা পলাশের অভিষেক হবে। এটা নিয়েও আমি অনেক এক্সাইটেড। সব মিলিয়ে সিনেমাটি নিয়ে আমার অনেক প্রত্যাশা জন্মেছে।’ চলতি বছরের শুরুতে ‘শিকার’ সিনেমার ঘোষণা দেওয়া হয়। তখন জানানো হয়েছিল, এটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য ওয়েব ফিল্ম হিসেবে নির্মিত হবে। পরে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেজা ফিল্মসের সঙ্গে আলোচনা করে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির উপযোগী পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্মাতা জানিয়েছেন, নেপালে প্রায় ২৫ দিন ‘শিকার’-এর শুটিং হবে। নেপাল অংশের কাজ শেষ করে দেশে ফিরবেন শিল্পী ও কলাকুশলীরা। এরপর বাংলাদেশে আরও প্রায় এক সপ্তাহ শুটিং চলবে। দৃশ্যধারণ শেষ হলে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ শুরু হবে। এরপরই সিনেমাটির মুক্তির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।