শেরপুরের গারো পাহাড়ে জীব বৈচিত্র্য বিলুপ্তি হয়ে আবারও প্রাণ ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে

ঝিনাইগাতী সংবাদদাতা
শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ি উপজেলার গারো পাহাড়ে জীব বৈচিত্র্য বিলুপ্তি হয়ে আবারও প্রাণ ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ময়মনসিংহ বন বিভাগের আওতায় গারো পাহাড়ে তিনযোগ আগেও জীব বৈচিত্র্য বন্যপ্রাণীর কিচিমিচির কোলাহলে পাহাড়ে ছিল নানা প্রজাতির জীব বৈচিত্র্য। কালের পরিবর্তনে মানুষের কোলাহল বর্তমানে গারো পাহাড়ে জীব বৈচিত্র্য বিলুপ্তি হয়েছে। শেরপুর জেলার ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা গারো পাহাড়ে এখন বন্যহাতি ব্যাতীত সকল জীব বৈচিত্র্য বিলুপ্তি হয়ে ”বন্যেরা বনে সুন্দর”শিশুরা মাতৃক্রোড়ে” প্রবাদটির সত্যতা মিলে গেছে। তিনযোগ আগেও বাঘ, ভাল্লুক, সিংহ, হরিণ,বনমোরগ, শিয়াল,বন কুকুর, বানর, সাপ সহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর ভয়ে গারো পাহাড়ে প্রবেশ করা দুস্কর হয়ে পড়েছিল । গারো পাহাড়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে আসা আটকে পড়া বন্যহাতির পাল ছাড়া অন্য কোন প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য দেখা মিলছে না। গজনী বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ খান সহ এলাকাবাসীরা জানান, ঐতিহ্যবাহী শেরপুরের গারো পাহাড়ে দিন দিন বন্যপ্রাণী বিলুপ্তি হয়েছে। মানুষের কোলাহল ও বনে অবাধে মানুষ যাতায়াতের ফলে বন্যপ্রাণী হারিয়ে গেছে ঠিকই এখন তৈল সংকট, রমজান মাসে বন্ধ পাহাড়ে আগুন না লাগানোর ফলে এখন পাহাড় নিরব থাকায় প্রাণীর আগমন ঘটছে। বিভিন্ন প্রজাতির জীব বৈচিত্র্য পাহাড়ে অবমুক্ত করে বনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্যে আহব্বান জানিয়েছেন বন কর্তৃপক্ষকে ।রাংটিয়া রেজ্ঞ কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, তিনযোগ আগেও বনে অনেক বন্যপ্রাণীর দেখা মিলেছে। এখন মানুষের আবাসস্থল গড়ে উঠার ফলে জীব বৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর দেখা পাওয়া যায় না। বন বিভাগ থেকে বন্যপ্রাণীকে বাচাঁনোর জন্যে সচেতনামূলক সেমিনার ও পাহাড়িদের সাথে আলোচনা ও প্রাণী অবমুক্ত করার কাজ চলছে। এখন বনে কোলাহল এবং পর্যটক না থাকার ফলে অনেক প্রাণীর আগমন হচ্ছে পাহাড়ে। বন্যহাতি ও অন্যান্য প্রাণীকে না মারার জন্যে আমরা কাজ করছি বলে জানান।