সারের দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, নষ্ট কৃষকের কর্মসময়

ইসলামপুর সংবাদদাতা
জামালপুরের বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে সার নিতে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের মূল্যবান কর্মঘণ্টা। পাশাপাশি সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারায় ফসলের উৎপাদন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী ডিলার পয়েন্ট থেকে সার না পাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনছেন। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। প্রতিদিন সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে কৃষকদের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও প্রয়োজনমতো সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন দেওয়ানগঞ্জের সানন্দবাড়ী এলাকার লংকারচরের বাদশা মিয়াসহ একাধিক কৃষক।
ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ও চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের কৃষকেরা জানান, ফসলের পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সারের পেছনেই দিনের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে। ডিলার পয়েন্টে পর্যাপ্ত সার না পেয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে খোলা বাজারে ছুটছেন। সেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
চরপুটিমারী ইউনিয়নের শাহ আলম, নবাব আলী, দুলাল মিয়াসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করা জরুরি। কিন্তু ডিলার পয়েন্টে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে একদিকে যেমন কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বেশি দামে সার কিনতে গিয়ে উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর জেলায় বর্তমানে ২১৯টি বিসিআইসি ও ৪৭টি বিএডিসি ডিলার পয়েন্ট রয়েছে। তবে ডিলার পয়েন্টের বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কৃষকেরা। তাদের অভিযোগ, কোনো ইউনিয়নে একজন ডিলার থাকলেও কোথাও চার-পাঁচজন ডিলার রয়েছেন। ফলে ডিলার ও বরাদ্দের অসম বণ্টনের কারণে কোনো এলাকায় দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে, আবার কোথাও তুলনামূলক কম চাপ থাকছে।
ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নে দুটি এবং সাপধরী ইউনিয়নে একটি ডিলার পয়েন্ট রয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, বিএডিসির অধিকাংশ ডিলার পয়েন্টই পৌর শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের সার সংগ্রহে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
এদিকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ডিলার পয়েন্ট নির্ধারিত সময়ে বন্ধ থাকার অভিযোগও করেছেন কৃষকেরা। তাদের দাবি, ডিলার পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ, সুষমভাবে বরাদ্দ বণ্টন এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুরে এক লাখ ২০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আমন চাষ হচ্ছে। এ সময়ে সময়মতো সার পাওয়া কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, জেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে।
ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় ডিলার সংখ্যা কম থাকায় সার বিতরণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। নতুন ডিলার নিয়োগ হলে এ সমস্যা দূর হবে। কৃষকের সময় ও শ্রম সাশ্রয়ে আমরা নিয়মিত ডিলার পয়েন্ট পরিদর্শন করছি। তবে গুজবে কান দিয়ে অগ্রিম সার না কেনার জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানাই।