৭ নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা

দেশের মধ্য এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারী বৃষ্টিতে সাত নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অনেক নদীর পানি আগামী তিনদিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে হাওর এলাকায় ইতোমধ্যে বন্যা আক্রান্ত এলাকার পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার পাশাপাশি নতুন করে কিছু এলাকা প্লাবিত হবার শঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। গতকাল সোমবার নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে কেন্দ্র জানায়, সুনামগঞ্জ জেলার নালজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে নেত্রকোনা জেলার বাউলাই নদী খালিয়াজুড়ি পয়েন্টের পানি ৮, ভুগাই-কংস নদী জারিয়াজাঞ্জইল পয়েন্টের পানি ৬৭, সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টের পানি ৫০, মগরা নদী নেত্রকোনা পয়েন্টের পানি ৭৯ ও আটপাড়া পয়েন্টের পানি ২৭ এবং হবিগঞ্জ জেলার কালনি-কুশিয়ারা নদী আজমেরিগঞ্জ পয়েন্টের পাঞ্জ ১০, সুতাং নদী সুতাং-রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে ভুগাই-কংস নদীগুলোর পানি কমেছে। এতে আরও বলা হয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীগুলোর পানি আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। দ্বিতীয় দিন কুশিয়ারা নদীর কোথাও কোথাও পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওরের আশেপাশের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীগুলোর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস অববাহিকার হাওরের আশেপাশের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ধনু-বাউলাই নদীগুলোর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে, এই অববাহিকার হাওরের আশেপাশের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীগুলোর পানি আগামী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং তৃতীয় দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। জুড়ি নদীর পানি আগামী ৭২ ঘণ্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সর্তকসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। সুতাং নদীর পানি আগামী একদিন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন কমতে পারে এবং বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় হবিগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে গতকাল সোমবার সকাল নয়টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও বরিশাল বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। গতকাল সোমবার দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে হাতিয়ায় ১২৪ মিলিমিটার।