দেওয়ানগঞ্জ সংবাদদাতা : জামালপুর-১(দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর) আসনে ভোটের মাঠে ধানের শীষ এগিয়ে, ভোটের সমীকরণে আমরাই জয়ী হবো ইনশাল্লাহ বলে দাঁড়িপাল্লা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
এ-আসনে বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন সাবেক সাংসদ ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামায়তের দাঁড়িপাল্লায়-কেন্দ্রীয় মজলিশে’র শুরা সদস্য জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে’র হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পর পর চারবার বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার, জাতীয় পার্টির নাঙ্গল প্রতীকে ফজলুল হক বাবুল ও গন অধিকার পরিষদের ট্রাক মার্কা নিয়ে ভোটের মাঠে লড়ছেন রফিকুল ইসলাম রফিক। তবে এ আসনে ধানের শীষ ও দাঁডিপাল্লা’র মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আমির মাহবুবুর রহমান চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, এ আসনে ভোটের সমীকরণে আমরাই এগিয়ে আছি। দাঁডিপাল্লার বিজয় সু নিশ্চিত। ১৯৯১ সালের পর থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত চারটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তিনবার ও বিএনপি একবার জয় লাভ করে। আসনটিকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি মনে করা হলেও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ কে হারিয়ে বিএনপির এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি’র শাসনামলে সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন উত্তরের পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ লাঘবের জন্য পুল্লাকান্দিতে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি বৃহৎ সেতু নির্মাণ করেন। এছাড়াও তিনি দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জে রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ এলাকার ব্যাপক দৃশ্যমান উন্নয়ন করেন। ওই সময়ে বাস্তবায়িত ব্যাপক উন্নয়নের জন্য তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মামলার জটিলতার কারণে তিনি প্রার্থী হতে পারেন নি। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত কে আবারো দলীয় মনোনয়ন দেয় বিএনপি। কিন্তু মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এবার দল তাকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনীত করেছে। অপরদিকে বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের টানা চারবার এর সাবেক সফল উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়ে হাত পাখা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তিনি পরিচ্ছন্ন নেতা হিসেবে বকশীগঞ্জ উপজেলায় দলমত নির্বিশেষে তারও জনপ্রিয়তা রয়েছে। ২০১৬ সালে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেও প্রতিটি নির্বাচনে তিনি ছিলেন ফ্যাক্টর। সাধারণ মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করায় এ উপজেলায় তার একটি ভোটব্যাংক রয়েছে। এ-আসনে জামায়াতে ইসলামী’র প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরা সদস্য ও জেলা জামায়াতে’র সাবেক আমির এডভোকেট মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী। তিনি তার কর্মী-সমর্থক দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিনিয়ত এ-আসনের দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে-গঞ্জে, মাঠ ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন। দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট টানতে ভোটারদের দ্বারস্থ হচ্ছেন তারা। ভোট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখানে ধানের শীষের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে। তবে আওয়ামী লীগের ভোট যে দল বেশি টানতে পারবে সে দলই ভোটে জয়লাভ করতে পারবে। এছাড়াও প্রথমবারের মতো জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন এ কে এম ফজলুল হক বাবুল ও গন অধিকার পরিষদ থেকে রফিকুল ইসলাম রফিক। তারাও ভোটের মাঠে রয়েছে। দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে ভোটারদের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন,এলাকার উন্নয়নে ভোটারদের বিভিন্ন প্রতিশ্র“তিও দিচ্ছেন। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেননি। এছাড়াও সিপিবি, এবি পার্টিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো এ আসনে কোন প্রার্থী ঘোষণা করেনি।
জামালপুর-১ আসনে ভোটের মাঠে ধানের শীষ এগিয়ে, দাঁড়িপাল্লার চ্যালেঞ্জ
