৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত গণতন্ত্রকে কবরে পাঠিয়েছিল আওয়ামী লীগ: মঈন খান

মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি দাবিদার আওয়ামী লীগ কাপুরুষের মতো পালিয়ে গিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কবরে পাঠিয়েছিল। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ড. মঈন খান বলেন, ‘৭২ থেকে ’৭৫ সময়কালে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কবরে পাঠিয়ে সংসদের ভেতরে মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। বাংলাদেশের মানুষের কথা বলার অধিকার এবং অর্থনৈতিক অধিকার হরণ করা হয়েছিল। জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশ যখন একটি কঠিন সময় ও চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল, তখন নিজের জীবন বাজি রেখে জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণায় উদ্দীপ্ত হয়ে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। অথচ তখন স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলে দাবিদার আওয়ামী লীগ কাপুরুষের মতো পালিয়ে গিয়েছিল। শহীদ জিয়া নিজের জীবনের মায়া করেননি। বিএনপির এ শীর্ষ নেতা বলেন, জিয়াউর রহমানের জীবনের আদর্শ ছিল সততা, কর্মপদ্ধতি ছিল শৃঙ্খলা এবং বিশ্বাস ছিল দেশপ্রেম। তিনি বলেন, তার ইতিহাস শুধু স্বাধীনতার ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে বাংলাদেশের জন্মের আদর্শ থেকে দেশকে বিচ্যুত করা হয়েছিল। সেখান থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্যই ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের ফলশ্রুতিতে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমানের সাড়ে তিন বছরের শাসনামলের কথা উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, আজ চিন্তা করলে অবাক হতে হয়, ক্ষমতায় থেকে মাত্র সাড়ে তিন বছরে তিনি ধ্বংসপ্রায় বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি সম্মানজনক জাতি হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু এবং জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুর রহিমসহ অন্য নেতারা।