নিজস্ব প্রতিনিধি: আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০২৬ কে সামনে রেখে জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে কে কাকে পেতে চান, বা কে মেধাবী, যোগ্য ও সৎ—এসব নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চা-আড্ডাতে। সম্প্রতি শেষ হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই যেন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে দেশসহ জেলাজুড়েই। একেক প্রার্থীর পক্ষে তার নিজ নিজ কর্মী-সমর্থকরা চালাচ্ছেন নানামুখী আলোচনা এবং করছেন অন্য প্রার্থীর সমালোচনাও।
এরই ধারাবাহিকতায় এ প্রতিবেদকের কথা হয় জামালপুর সদর উপজেলার বেশ কিছু ইউনিয়নের বিএনপির তৃণমূল কর্মীদের সাথে। তারা বলেন, জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলাবাসীর সঠিক মূল্যায়ন এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন তৃণমূল থেকে বেড়ে ওঠা যোগ্য, সৎ, শিক্ষিত, পরীক্ষিত, বিএনপির পরিবারের সন্তান মো. সফিউর রহমান শফি মাস্টারকেই। কারণ শফি মাস্টার কখনই নৈতিকতা বিসর্জন দেননি। জনগণের সেবার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন নিরবে-নিভৃতে। শফি মাস্টারের পিতা মরহুম মজিবর রহমান মাস্টার বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পিতার হাত ধরেই শফি মাস্টার ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে তিল তিল করে নিজেকে গড়ে তুলেছেন শহীদ জিয়ার আদর্শিক মানুষ হিসেবে। তার মতো যোগ্য মানুষের হাতেই সদর উপজেলাবাসী নিরাপদ বলে আমরা মনে করি। তিনি একজন সৎ, যোগ্য এবং দক্ষ সংগঠক, তাই দলের হাইকমান্ডের কাছে আমাদের দাবি আসন্ন জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে শফি মাস্টারের মতো মানুষের হাতেই দলীয় মনোনয়ন তুলে দেওয়া হোক। সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমরা চাই সৎ-যোগ্য মানুষের হাতেই আমাদের নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হোক। আমাদের জানামতে শফি মাস্টার একজন শিক্ষিত, সৎ, যোগ্য এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোসহীন ব্যক্তি। এমন ব্যক্তির হাতেই আমাদের নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন ক্ষেত্র নিরাপদ। তাই আমরা শফি মাস্টারকেই সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই।
জানা গেছে, রাজনৈতিক জীবনে মো. সফিউর রহমান শফি ছিলেন ১৯৮৭-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত জামালপুর পৌর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৮৮-১৯৯১ সাল পর্যন্ত জামালপুর শহর ছাত্রদলের প্রথমে আহ্বায়ক পরবর্তীতে নির্বাচিত সভাপতি, ১৯৯১-১৯৯৪ পর্যন্ত জামালপুর সদর উপজেলা ছাত্রদলের প্রথমে আহ্বায়ক পরবর্তীতে সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত সভাপতি এবং তিনিই প্রথম সদর উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করেছিলেন। ১৯৯৪ সালে বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার সাহেবের উপস্থিতিতে জামালপুর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে নাম ঘোষণা হলেও গ্রুপিংয়ের কারণে কমিটির অনুমোদন হয়নি। ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত জামালপুর সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ছিলেন। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মরহুম আনোয়ারুল হকের আভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে হত্যা হওয়ায় সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্বে আসতে পারেননি, কিন্তু তিনি ২০০১ সালে জামালপুর সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃবৃন্দের হাতেই নেতৃত্ব তুলে দিয়েছিলেন সফলভাবেই। ১৯৯৮ সালে সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক থাকাকালীনই যোগ্যতার মানদণ্ডে দায়িত্ব পান জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে। পরবর্তীতে ২০০১ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। এ দায়িত্বটা সততা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে একাধারে তিনবার (২০২০ সাল পর্যন্ত) ছিলেন। ২০২০ সালে তাকে জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়। সে সময় তিনি সদর উপজেলার অধিনস্ত ১৩৫টি ওয়ার্ড ও ১৫টি ইউনিয়নে সম্মেলন করে যোগ্য নেতৃত্ব তুলে আনেন জিয়া পরিবারে। ২০২২ সালে জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক থাকাকালীন তাকে ২০০৩ সালে জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় এবং ২০১৬ সালে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি করা হয় যে দায়িত্ব অদ্যাবধি পর্যন্ত পালন করছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ব্যক্তিগত জীবনে সফিউর রহমান শফি মাস্টারের সামাজিক পরিচিতি হচ্ছে—তিনি মানুষ গড়ার কারিগর একজন শিক্ষক, জেলা স্কাউটস, জামালপুরের সম্পাদক, জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সহ-সভাপতি, সহ-সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, রেড ক্রিসেন্ট, জামালপুর ইউনিটের আজীবন সদস্য, এফপিএবি, জামালপুরের আজীবন সদস্য, বাঁশচড়া ভূমিহীন সমবায় সমিতি, বাঁশচড়া, জামালপুর সদরের সভাপতি, জামালপুর শহরের কাচারীপাড়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার সাবেক সভাপতি, কাচারীপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সদস্যসহ নানা সামাজিক সংগঠনের সাথে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
কথা হলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী-জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সফিউর রহমান শফি এ প্রতিবেদককে বলেন, দীর্ঘদিন রাজনীতি করার সুবাদে দলীয় নেতা-কর্মীসহ আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমাকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়। যদি দল আমাকে যোগ্য মনে করে এবং জামালপুর সদর আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন ভাই যদি আমাকে সমর্থন দেন তাহলে আমি নির্বাচনে অংশ নেব। আমি মনে করি দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে তবে আল্লাহর রহমতে জামালপুর সদর উপজেলাবাসী আমাকে নিরাশ করবেন না।
