ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের প্রথম দিনে ভোট ২৭৫৯ জন

এশিয়ার বৃহত্তম বার ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে প্রথম দিনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলে। প্রথম দিনে মোট ২ হাজার ৭৫৯ জন ভোট দিয়েছেন। ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আজ বৃহস্পতিবারও একইভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিনিয়র অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব মো. বোরহান উদ্দিন জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ২১ হাজার ৭৩১ জন আইনজীবী ভোটার রয়েছেন। তারা ২৩টি পদে প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এ নির্বাচনে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত আইনজীবীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) এবং জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবীরা আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেল) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উভয় প্যানেল থেকে ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন প্রার্থী ছাড়াও স্বতন্ত্র ৯ জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবারই প্রথম আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তবে একাধিক আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে আগ্রহী হলেও অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচন করতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে জামায়াত পূর্ণ প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এটি ঢাকা আইনজীবী সমিতির প্রথম নির্বাচন। এ কারণে ভোটকে ঘিরে আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। উভয় প্যানেলই সুষ্ঠু ভোট ও বিজয়ের প্রত্যাশা করছে। নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান (আনিস), সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. এলতুতমিশ সওদাগর (অ্যানি), সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাদী হাসান জুয়েল, লাইব্রেরি সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুল হাসান (সবুজ), সাংস্কৃতিক সম্পাদক মারজিয়া হীরা, অফিস সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন মৃধা, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সোহেল খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ.এস.এম ফিরোজ এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম (শফিক)। সদস্য পদে এই প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এ.এইচ.এম রেজওয়ানুল সাঈদ (রোমিও), ফারজানা ইয়াসমিন, মো. আদনান রহমান, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম (মামুন), মো. সানাউল, মামুন মিয়া, মুজাহিদুল ইসলাম (সায়েম), শেখ শওকত হোসেন এবং সৈয়দ সারোয়ার আলম (নিশান)। অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপি সমর্থিত সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস. এম. কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শাহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান (আজাদ), কোষাধ্যক্ষ মো. আজমত হোসেন, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন আক্তার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, লাইব্রেরি সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার, অফিস সম্পাদক মো. আবদুর রাজ্জাক, ক্রীড়া সম্পাদক বাবুল আক্তার (বাবু), সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মোল্লা এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ। সদস্য পদে এই প্যানেলের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বেলাল হোসেন, দিলরুবা আক্তার (সুবর্ণা), জহিরুল ইসলাম, কাওসার আহমেদ, মো. কাইয়ুম হোসেন (নয়ন), মো. মহসিন (রেজা), মো. ওমর ফারুক, মো. শাহ আলম, মো. ইউনুস এবং মোশাররফ হোসেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে মোহাম্মদ ইউনুস আলী বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক পদে বলাই চন্দ্র দেব ও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ পদে রফিকুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে দেওয়ান আবুল হোসেন এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ওলিদা বেগমসহ মোট ৯ জন বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।