শাপলা চত্বর ঘটনার তদন্ত ৯০ শতাংশ শেষ: চিফ প্রসিকিউটর

২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। আর সামবেশে হামলার ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত কার্যক্রম ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এসব তথ্য জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান। আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ নিয়ে হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। ওইদিন শুধু ঢাকাতেই ৩২ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তাদের পরিচয় আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। এর মধ্যে কয়েকজনের ময়নাতদন্ত হয়েছে। এছাড়া পরদিন তথা ৬ মে নারায়ণগঞ্জে নিহত হওয়া ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন, কুমিল্লায় একজনসহ ৫৮ জনের পরিচয় আমরা শনাক্ত করেছি। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ মামলার তদন্তকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এরই মধ্যে সাবেক একাধিক আইজিপি গ্রেপ্তার হয়েছেন। এছাড়া সরকার প্রধান থেকে শুরু করে তৎকালীন বাহিনী প্রধান যারা জড়িত, তাদের নামও আমরা পাচ্ছি। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে নাম প্রকাশ করছি না। তবে, আমাদের এ মামলাটির তদন্ত কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৭ জুনের মধ্যে তদন্ত শেষ হবে বলে আশাবাদী। এরপর ফরমাল চার্জ আকারে দাখিল করা হবে। মামলায় কী কী সাক্ষ্য প্রমাণ মিলেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রত্যেক নিহতের পরিবারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। হেফাজতে ইসলামের সদস্যরা যারা খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও আমরা নিয়েছি। সবমিলিয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য আমরা পেয়েছি। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি করা হবে কি না জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা একটি তদন্তের মধ্যে পেয়েছি যে, তিনি ঘটনার সময় দেশের বাইরে ছিলেন। যদি তিনি দেশের বাইরে থাকেন, সেটাও আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি। সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসেবলিটি থাকলে বিষয়টিও দেখা হবে।