দেশদ্রোহীদের সম্পদ জব্দ করল ইরান

ইরানের বিচার বিভাগ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় হামাদান প্রদেশে দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত ৪০ জন ব্যক্তির সম্পদ জব্দ করেছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। গতকাল বুধবার ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, জব্দ করা সম্পদগুলো শত্রুপক্ষের সহযোগী নেটওয়ার্কের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মালিকানাধীন ছিল। এসব সম্পদ এখন রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সম্পদ ব্যবহার করা হবে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোর পুনর্গঠনে। বিশেষ করে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা কেন্দ্র এবং অন্যান্য জনসেবামূলক অবকাঠামো পুনর্র্নিমাণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ইরান সরকার বলছে, জনগণের কল্যাণে এই সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এদিকে ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মিজান জানিয়েছে, দেশটির রাজধানী তেহরানের পশ্চিমে আন্দিশেহ শহরের আরঘাভান শপিং সেন্টারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত আটজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় দমকল বিভাগ জানিয়েছে, ভবনটির আবরণ দাহ্য হওয়ায় গত মঙ্গলবার শপিং কমপ্লেক্সটিতে আগুন লেগে যায়। অগ্নিকাণ্ডের ভিডিওতে ভবনটিকে আগুনে সম্পূর্ণরূপে পুড়তে দেখা গেছে। এই ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের এবং সম্পত্তি উন্নয়নকারী সংস্থাকেও শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করার আদেশ জারি করা হয়েছে। কলকাতায় তৃণমূলের অফিস ও মাংসের দোকানে হামলা বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ঐতিহাসিক নিউ মার্কেট এলাকায় বুলডোজার দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিস ও মাংসের দোকানে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউ মার্কেট এলাকায় কয়েকটি দোকান ও স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ও ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার সময় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে। পাশাপাশি কিছু ভিডিওতে বিজেপির পতাকা হাতে কয়েকজনকে বুলডোজারের ওপর দাঁড়িয়ে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। হামলার পর নিউ মার্কেট এলাকার বহু দোকানদার দোকান বন্ধ করে দেন। ব্রিটিশ আমলের এই বাজারটি কলকাতার অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাবসা করে আসছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য ডেরেক ও ব্রায়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, পুলিশি অনুমতি নিয়েই বিজয় উদযাপনের নামে নিউ মার্কেট এলাকায় কিছু দোকান ভাঙা হয়েছে। তিনি এ ঘটনাকে বিজেপির কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সামিক ভট্টাচার্য দলের কর্মীদের প্রতি সহিংসতা বা ভাঙচুরে জড়িত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতা দল সমর্থন করবে না এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সময়ে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ এলাকায় একটি পৃথক ঘটনায় বামপন্থি নেতা ভ্লাদিমির লেনিনের একটি পুরোনো মূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ভিডিওতে কয়েকজনকে মূর্তিটি ভেঙে ফেলে দিতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, দলীয় কার্যালয় দখল ও ভাঙচুরের একাধিক অভিযোগ সামনে আসছে। বিভিন্ন ঘটনায় উভয় রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের হতাহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।