ভাইরাল ঢাবির শিক্ষক তাশরিককে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ও বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করে আলোচনায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ তাশরিক-ই-হাবিব-কে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তিনি সম্প্রতি গান গেয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হন। গত সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে বলে জানা গেছে। সভাসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন কনটেন্টের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বক্তব্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সিদ্ধান্তের পর বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
৩ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, দুজনকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি: এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আওয়ামীপন্থী তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই শিক্ষকরা হলেন- ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন। গত সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। সভায় জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গান গেয়ে আলোচিত শিক্ষক তাশরিক-ই-হাবিবকেও বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও জুলাই অভ্যুত্থানে সমালোচিত ভূমিকায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার লাভলু মোল্লা শিশিরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সভার এক সদস্য জানান, বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটি কর্তৃক সুপারিশ অনুযায়ী বাংলা বিভাগের শিক্ষক তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। এ ছাড়াও সভায় ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত গোলাম রব্বানীর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদ বাতিল এবং উক্ত পদে জিএস প্রার্থী রাশেদ খানকে বিবেচনার জন্য আইন উপদেষ্টার মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় তা বাতিল এবং একই সঙ্গে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে তার জিএস পদ অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করেছিল একাডেমিক কাউন্সিল।